Image description

সম্প্রতি শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ছত্রচ্ছায়ায় পেশাদার ‘শ্যুটারদের’ একের পর এক খুনের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তরের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তর এ ব্যাপারে একাধিক জরুরি বৈঠক করলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে এখন আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী শিগগিরই আরো তৎপর না হলে হত্যাসহ অপরাধমূলক ঘটনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সর্বশেষ রাজধানীর ফার্মগেটের তেজতুরী বাজার এলাকায় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তথ্য গোয়েন্দারা বলছেন, ‘এরা অপরাধজগতের কিলার গ্রুপের সদস্য।’

শুধু মোছাব্বির হত্যাই নয়, মাঠ পর্যায়ে সহযোগী পেশাদার সন্ত্রাসীদের নেতৃত্বে রয়েছেন শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। তাঁরা মূলত আড়ালে থেকে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছেন।
সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি গুলির ঘটনায় তাঁদের যোগসূত্র পাওয়ার কথা জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় জড়িতরাও পেশাদার সন্ত্রাসীদলের সদস্য। এ ঘটনার পর রাজধানীসহ সারা দেশে গুলি করে হত্যা ও আতঙ্ক সৃষ্টির অন্তত ৯টি ঘটনায় তাঁদের যোগসূত্র পাওয়া গেছে বলে পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। 

অপরাধজগতের এই সন্ত্রাসীরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন যে তাঁরা প্রতিপক্ষের লোকজনকে টার্গেট করে হত্যা মিশনে নেমেছেন।
গত ১০ নভেম্বর রাজধানীর আদালত এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে গুলি করে হত্যার ঘটনা এর উদাহরণ। এর কয়েক দিন আগে চট্টগ্রামে ভোটের মাঠে অপরাধজগতের আরেক সদস্য সারওয়ার হোসেন বাবলাকে গুলি করে হত্যা করেন প্রতিপক্ষের পেশাদার সন্ত্রাসীরা। অপরাধজগতের আধিপত্য নিয়ে বিরোধ থেকে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে। 

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুুনকে হত্যা করা হয় মূলত অপরাধজগতের দ্বন্দ্বের কারণে।
পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর অন্তত ছয়জন শীর্ষ সন্ত্রাসী দীর্ঘ কারাবাসের পর জামিনে মুক্তি পান। এর মধ্যে রয়েছেন সুইডেন আসলাম, হাজারীবাগ এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন, ‘কিলার আব্বাস’ হিসেবে পরিচিত মিরপুরের আব্বাস আলী, মোহাম্মদপুরের ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলালসহ ঢাকার অপরাধ জগতের আরো দুই সদস্য খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন ও খোরশেদ আলম ওরফে রাসু ওরফে ফ্রিডম রাসু। তাঁরা এখন দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে। এর বাইরে বিদেশে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানও দেশে সহযোগীদের দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছেন।

তদন্তে পাওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে গোয়েন্দা সূত্র বলছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের সহযোগী রনি মামুন হত্যাকাণ্ডের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ করেন। দুজন পেশাদার কিলার দুই লাখ টাকা নিয়ে মামুনকে ‘শ্যুট’ করেন। নিহতের স্ত্রী বিলকিস আক্তার দীপা বলেন, ‘ইমনের নির্দেশে মামুনকে হত্যা করা হয়।’

সম্প্রতি দেশে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে কি না—জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি বলেন, ‘এখন কী প্রভাব ফেলবে, কী প্রভাব ফেলবে না—ওটা বলা মুশকিল। কে মারা গেল, তার ওপর নির্ভর করে।’

গতকাল শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শিবু মার্কেট এলাকায় মডার্ন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে পুলিশ সদর দপ্তরের এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়, নির্বাচন ঘিরে অপরাধ চক্রগুলোকে ‘ভাড়াটে পেশিশক্তি’ হিসেবে ব্যবহারের জন্য কিছু রাজনৈতিক নেতা মদদ দিচ্ছেন।