Image description

২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার করায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর চাকরি হারিয়েছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নুসরাত জাহান সোনিয়া। গত ২৮ ডিসেম্বর পটুয়াখালী জেলা শিক্ষা অফিসারের জারি করা এক অফিস আদেশে ৭ বছর আগের সেই সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। পরদিন ২৯ ডিসেম্বর পটুয়াখালীর কলাপাড়ার দক্ষিণ টিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন সোনিয়া।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ৪ আগস্ট মধ্যরাতে পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন নুসরাত জাহান সোনিয়া।

পরদিন ৫ আগস্ট তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ (২) ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ৬ আগস্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শহীদুল ইসলামের সই করা চিঠির মাধ্যমে তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

ওই সময়ে সোনিয়া ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে একই বছরের ২৩ নভেম্বর সিজারিয়ান সেকশনে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন তিনি।

বর্তমানে সেই সন্তানের বয়স ৭ বছর। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ১৪ দিন কারাগারে ছিলেন সোনিয়া। পরে হাইকোর্ট এই মামলার কার্যক্রম বাতিল করে গত বছরের ২২ মে নুসরাতকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।

এদিকে গত ২৮ ডিসেম্বর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার উম্মে সালমা লাইজু স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়, ‘কলাপাড়া উপজেলার দক্ষিণ টিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুসরাত জাহান সোনিয়ার বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দায়েরকৃত কলাপাড়া বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জিআর মামলা নং-৩৩৭/১৮, পরবর্তীতে (ঢাকা) মামলা নং-৩৮৫/১৯, বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনাল নং ৬১/২১ মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।

উপজেলা শিক্ষা অফিসারের ২৪ ডিসেম্বর তারিখের ৬৪৮ নং স্মারক অনুযায়ী সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এ দপ্তরের ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট জারিকৃত সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করা হল।’

এতে আরো বলা হয়, শিক্ষকের সাময়িক বরখাস্তকালীন সময় চাকরিকাল হিসেবে গণ্য হবে এবং তিনি বিধি মোতাবেক সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ের বেতন-ভাতা বকেয়া হিসেবে প্রাপ্য হবেন।