গাজীপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি করে ছিনতাই করা মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে রাজধানীর দক্ষিণখান থানার আশকোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে পুলিশ।
এনসিপির ওই কর্মীর নাম হাবিব চৌধুরী (২৫)। তিনি গাজীপুর নগরের বাসন থানার মুগর খাল (৭১ গলি) এলাকায় থাকেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ব্রাহ্মণ বাউগা গ্রামে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার জুগিতলা এলাকায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে দুজন অজ্ঞাত সন্ত্রাসী গুলিবর্ষণ করে একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল ছিনতাই করে নিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল ছায়াতদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনায় জড়িত দুই সন্ত্রাসীকে শনাক্ত করা হয়। পরে আসামিদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর দক্ষিণখান থানার আশকোনা এলাকায় লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ছিনতাই করা মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় আজ সন্ধ্যা পৌনে সাতটা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।
জানতে চাইলে হাবিব চৌধুরী আজ সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার মামলা করা হয়নি। এখন (সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা) থানায় যাচ্ছি মামলা করতে। পুলিশ আমার মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে।’
এনসিপির কর্মীকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের পর গতকাল বিকেলে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আলী নাছের ফেসবুক লাইভে বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধা এবং এনসিপির একজন সাহসী নেতা হাবিব চৌধুরী। মূলত তাঁকে ট্র্যাপ সাজিয়ে গুলি করা হয়। শহীদ ওসমান হাদিকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তাঁকেও একইভাবে হত্যার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এটা খুবই অ্যালার্মিং। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যাঁরা অংশগ্রহণ করেছেন, তাঁরা কেউই নিরাপদ নন। রাষ্ট্র নিরাপত্তা দিচ্ছে না। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা ১২ ঘণ্টা সময় দিচ্ছি। এই ঘটনার সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনার পরই আমরা অভিযান শুরু করি। অভিযান চালিয়ে আজ বিকেলে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’