চারিদিকে এলপিজি গ্যাসের সংকট, কোথাও সিলিন্ডার মিলছে না, কোথাও আবার অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে ব্যবসায়ীদের বিক্রি বন্ধের ঘোষণায় আরও বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বাসাবাড়িতে নিয়মিত রান্না ব্যাহত হওয়ায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে হোটেল-রেস্টুরেন্টে খাবার কিনছেন। ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আশপাশের হোটেলগুলোতে বাড়তি ভিড় দেখা যাচ্ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে খাবারের দামে চাপ ও ভোক্তাদের ভোগান্তি।
রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকার হোটেল–রেস্টুরেন্ট ঘুরে দেখা গেছে, সকালের নাস্তা থেকে দুপুরের খাবার পর্যন্ত ক্রেতার সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি। অনেক পরিবার পুরোপুরি হোটেলনির্ভর হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
একই এলাকার এক চায়ের দোকানি আযাদ হোসেনবলেন, নাশতা বানাতে গ্যাস না থাকায় অনেকেই বাইরে থেকে খাবার কিনছেন। ফলে পরোটা, ভাজি, ডাল আর ডিমের চাহিদা বেড়েছে। তবে গ্যাস সংকট থাকলে আমাদেরও রান্না চালানো কঠিন হয়ে যাবে।
আগারগাঁও এলাকার একটি রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক মাইনুল জানান, গত কয়েক দিনে দুপুরের খাবারের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক পরিবার বাসায় রান্না করতে না পেরে পুরো পরিবার নিয়ে রেস্টুরেন্টে খেতে আসছে। তবে গ্যাসের অনিশ্চয়তায় ভবিষ্যতে খাবার সরবরাহ ধরে রাখা কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
কারওয়ান বাজার এলাকার বাসিন্দা চাকরিজীবী মাহমুদ হাসান বলেন, বাসায় গ্যাস নেই, সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে প্রতিদিন হোটেল থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে। এতে খাবারের খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
একজন গৃহিণী সোফিয়া বলেন, সকালে বাচ্চাদের নাশতা থেকে শুরু করে দুপুরের খাবার সবই বাইরে থেকে আনতে হচ্ছে। সব জায়গায় দাম একটু একটু করে বাড়ছে। এভাবে চললে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে।
কিছু এলাকায় খাবারের দাম বাড়ানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। মোহাম্মদপুরের একটি হোটেলে ভাত–ডাল–সবজির প্লেটের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে বলে জানান ক্রেতারা। হোটেল মালিকরা বলছেন, গ্যাসের সংকটের পাশাপাশি চাল, তেল ও সবজির দাম বাড়ায় খাবারের দাম সমন্বয় করতে হচ্ছে।