বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সঙ্গে দুইটি আসনে গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) সমঝোতা হয়েছে, প্রচারিত এমন সংবাদকে সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে গণঅধিকার পরিষদ।
দলটি বলছে, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণঅধিকার পরিষদ এখন পর্যন্ত এককভাবেই তার নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) গণঅধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিব্রতিতে দলটি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গণঅধিকার পরিষদের নির্বাচনী জোট বা আসন সমঝোতার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সম্প্রতি কিছু বিভ্রান্তিকর, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অসত্য তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। উক্ত তথ্যে দাবি করা হয়েছে যে, গণঅধিকার পরিষদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সঙ্গে আসন সমঝোতায় পৌঁছেছে যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য এবং দলের গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপন্থী।
এতে বলা হয়, গত ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং, সোমবার গণঅধিকার পরিষদের নির্বাচনী অবস্থান স্পষ্টীকরণ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে দলের উচ্চতর পরিষদ, কেন্দ্রীয় সংসদ, জেলা প্রতিনিধিবৃন্দ, অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং মনোনীত প্রার্থীদের সমন্বয়ে একটি পূর্বঘোষিত কেন্দ্রীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় উপস্থিত সকলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয় যে, গণঅধিকার পরিষদ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট বা আসন সমঝোতায় যাবে না এবং এককভাবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখের পর থেকে গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ বা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এ সংক্রান্ত কোনো নতুন সভা অনুষ্ঠিত হয়নি এবং কোনো নতুন সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সঙ্গে দুইটি সমঝোতার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, আসনে গণঅধিকার পরিষদের সমঝোতা হয়েছে এ মর্মে প্রচারিত সংবাদ ও তথ্যসমূহ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর, যা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা মাত্র। দল হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে গৃহীত সিদ্ধান্তই এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত ও বহাল সিদ্ধান্ত।
সবশেষে বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি ব্যক্তিগত পর্যায়ে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে উক্ত বিষয়ে আলোচনা বা সমঝোতা প্রক্রিয়ায় লিপ্ত হয়ে থাকে, তবে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমূহের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে দল হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণঅধিকার পরিষদ এখন পর্যন্ত এককভাবেই তার নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।