কুড়িগ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদ শৈত্যপ্রবাহ। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীতল বাতাসে বাড়ছে কাঁপুনি। গত কয়েকদিন ধরে মিলছে না সূর্যের দেখা। মাঝে-মধ্যে সূর্য উকি দিলেও নেই কোনো উত্তাপ। তারপর কিছুক্ষণ পরেই সূর্য হারিয়ে যায় মেঘের আড়ালে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছেন খেঁটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কষ্ট বেড়েছে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে জেলায় সবনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের চর রাউলিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, খড়ের ঘরে থাকি বাতাস রাইতে ও দিনে হুহু করে ঢুকে, মোক কাবু করছে। বউ-বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্ট হইছে। হামরা গরীব মানুষ এতো ঠান্ডা হইলে বাঁচমো কেমনে।
রিক্সা চালক নুরুল হক বলেন, সকাল বেলা রিকসা নিয়ে বের হতে পারি না। যাত্রীও কম। ফলে আয় রোজগার নাই বললে চলে। শীত আসলে আমাদের মতো শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই।
এবছর শীতের কারণে গত কয়েক দিন থেকে সর্দি, কাশি, নিউমেনিয়া ,আমাশয় ও ডাইরিয়াজনিত রোগীর সংখ্যা হাসপাতালে বেড়ে চলছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপ্নন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে। কিছু রোগী হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। আবার কিছু কিছু রোগী হাসপাতালের ভর্তি হচ্ছেন। গুরুত্বের সঙ্গে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, বৃহস্পতিবার সকালে জেলায় সবনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৭ ভাগ।
কুড়িগ্রাম জেলা শাখার ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকতা আব্দুল মতিন জানান, ৯টি উপজেলায় শীতবস্ত্র বিতরণ চলমান রয়েছে।