সাবিনা আহমেদ
বাংলাদেশের ক্যাম্পাস রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায় লেখা হয়েছে। ইসলামী ছাত্র শিবির-সমর্থিত জোট পঞ্চমবারের মতো ইউনিভার্সিটি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে। এটি শুধু একটি নির্বাচনী সাফল্য নয়, বরং যুবসমাজের মধ্যে একটি গভীর পরিবর্তনের সংকেত। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্রগাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে এই জয়গুলো দেখিয়ে দিচ্ছে যে, শিবিরের নেতৃত্বাধীন প্যানেলগুলো শিক্ষার্থীদের মন জয় করেছে—সংগঠিত প্রচারণা, আদর্শভিত্তিক রাজনীতি, পজিটিভ প্রচারণা, এবং যুবকদের সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে।
এই পঞ্চম জয় কোনও সাধারণ জয় না, বরং তার চাইতেও অনেক বড় কিছু, একটি ট্রাডিশনের জন্ম। প্রথম জয় থেকে পঞ্চম জয় আমাদের যা দেখায়-
প্রথম জয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: এটাকে হয়তো বলা যেত একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। হয়তো সাময়িক পরিস্থিতি বা ভাগ্যের খেলা। ক্যাম্পাসে শিবিরের প্রথম সাফল্যকে অনেকে এভাবেই দেখেছিল—একটা অপ্রত্যাশিত ঘটনা, যা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কিন্তু এই জয়ের মূল কারণ ছিলো সুচিন্তিত প্রচারণা, ছাত্র সহায়তা কর্মসূচি, জুলাই বিদ্রোহের লিঙ্ক এবং ইতিবাচক রাজনীতি। 
দ্বিতীয় জয়, জাহাঙ্গীরনগর বিষবিদ্যালয়: এখানে আসে সম্ভাবনার সূচনা। প্রথমটাকে যদি ভুল ধরে নেওয়া যায়, তাহলে দ্বিতীয়টায় সবাই ভাবতে শুরু করে: “হয়তো এখানে কোনো প্যাটার্ন লুকিয়ে আছে? শিবির কি সত্যিই শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে?” এটি ছিল সন্দেহ এবং কৌতূহলের মিশ্রণ। এখানে কাজ করেছে শিক্ষার্থীদের বিশ্বাস, ক্যান্ডিডেটদের উদারতা এবং সংগঠনশীলতা। 
তৃতীয় জয়, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: এখন এটি হয়ে ওঠে একটি উদাহরণ। তিনবার জিতলে আর বলা যায় না যে এটি কাকতালীয়। শিবিরের সংগঠনশীলতা, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং যুবকদের সাথে সংযোগ স্থাপনের ক্ষমতা এখানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এটি অন্য ক্যাম্পাসগুলোর জন্য একটি মডেল হয়ে দাঁড়ায়। জয়ের মূল কারণ ছিলো ইসলামী মূল্যবোধ এর প্রতি ব্যাপক সমর্থন এবং পূর্ববর্তী মোমেন্টাম। 
চতুর্থ জয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: চারবার জিতলে তা পরিণত হয় একটি ট্রেন্ডে। এখন এটি আর অস্থায়ী নয়—এটি একটি প্রবণতা, যা দেখিয়ে দেয় যে বাংলাদেশের যুবসমাজে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতির প্রভাব বাড়ছে। শিবিরের জয়গুলো ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক গতিপথকে প্রভাবিত করতে শুরু করে। এই জয়ে কাজ করেছে ক্যান্ডিডেটদের মোরাল ক্যারেক্টার, দুর্নীতি-মুক্ত প্রচার এবং জাতীয় পরিবর্তনের সংকেত।
পঞ্চম জয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: আর পঞ্চমবার জিতলে? এটি হয়ে ওঠে একটি ট্র্যাডিশন—যার পথ অনুসরণ করা হয়। এখন শিবিরের সাফল্য আর অস্থায়ী ট্রেন্ড নয়, বরং একটি প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্য। এটি দেখিয়ে দেয় যে শিক্ষার্থীরা শিবিরের নেতৃত্বে বিশ্বাস স্থাপন করেছে, এবং এই জয়গুলো ভবিষ্যতের ক্যাম্পাস রাজনীতির দিকনির্দেশনা দিবে। এই জয়ের পিছনে ছিলো শক্তিশালী ক্যাম্পেইন এবং আদর্শের আকর্ষণ।
এই পঞ্চম জয় শুধু শিবিরের জন্য নয়, বাংলাদেশের যুবশক্তির জন্যও একটি মাইলফলক। এটি প্রমাণ করে যে, আদর্শ, সংগঠন এবং নিষ্ঠার মাধ্যমে যেকোনো চ্যালেঞ্জ জয় করা সম্ভব। ভবিষ্যতে এই ট্র্যাডিশন কীভাবে বিকশিত হয়, তা দেখার অপেক্ষায় রইলাম। শিক্ষার্থীদের এই উত্থান দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতকে নতুন আলোয় আলোকিত করবে।