Image description

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি রাজনৈতিক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগে থেকেই বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর পুরান ঢাকার বিভিন্ন ইউনিটের উৎসুক নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গেট ও আশেপাশের এলাকায় জড়ো হতে দেখা যায়। বিশেষ করে ভোট গ্রহণ শেষের পর বিকেল থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। 

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফটক ও আশেপাশের এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক, বাংলাবাজার অভিমুখী দ্বিতীয় ফটক ও শাঁখারীবাজার অংশের তৃতীয় ফটক ও পোগজ স্কুল এন্ড কলেজের ফটকসহ ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী ভিক্টোরিয়া পার্ক, বাংলা বাজার মোড় ও কোর্ট এলাকার বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট দলে একত্রিত হচ্ছেন বিএনপি ও জামাতের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা। দুপুর থেকেই এসব এলাকায় তাদের অবস্থান চোখে পড়তে শুরু করে। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের আরও নেতাকর্মীরা আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন। শুধু রাজনৈতিক কর্মীরাই নন, জকসু নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা গেছে বাড়তি উৎসাহ ও উদ্দীপনা। আশপাশের এলাকার অনেক মানুষ কৌতূহল নিয়ে ক্যাম্পাসের আশেপাশে অবস্থান করছেন।

বিএনপি-জামায়াতের একাধিক নেতাকর্মী জানান, জকসু নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। আজ সেই দাবি বাস্তবায়ন হয়েছে, এটা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক। আমরা নির্বাচনের ফলাফল জানার জন্য এসেছি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। 

লক্ষীবাজারের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এলাকায় অনেকদিন পর এমন উৎসবমুখর পরিবেশ দেখছি। সকাল থেকেই মানুষজনের আনাগোনা ছিল, কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। শিক্ষার্থীদের ভোট দিতে যাওয়ার দৃশ্য আর মানুষের আগ্রহ দেখে ভালো লাগছে। এই নির্বাচন এলাকার জন্যও সাথে সামনের জাতীয় নির্বাচনেী জন্য একটা ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় পার্শ্ববর্তী ডিএসসিসির ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা জগন্নাথ কলেজে থাকাকালীন ছাত্রদল করেছি। আজ ভিপি নির্বাচন হচ্ছে দীর্ঘদিন পর। আমাদের সময় ভিপি-জিএস ছিলো লোটন-ঝোটন।ছাত্রদলের প্যানেলের খোঁজ নিতে এসেছি। আমাদের বন্ধু-বান্ধব, সিনিয়র-জুনিয়ররাও এসেছে।

জামায়াত কর্মী সাইদুল ইসলাম বলেন, সারাদেশে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিবিরের ভূমিধ্বস জয় হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই আমার ব্যবসা। এখানেও শিবিরের ছেলেরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে আশা করছি। তাদের উৎসাহ দিতেই ক্যাম্পাসে এসেছি।

এদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে ১ ও ৩ নম্বর গেট বন্ধ রেখে শুধুমাত্র ২ নম্বর গেট খোলা রাখা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২ নম্বর গেটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তিনটি ইউনিটের সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন।

প্রসঙ্গত, কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পর এই প্রথম কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শেষ হয়েছে। বর্তমানে ফলাফল ঘোষণার জন্য ব্যালট বাক্সগুলো একত্রিত করা হচ্ছে। মেশিনের মাধ্যমে ভোট গণনা শেষে আজ অথবা আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।