Image description
আগামী সপ্তাহে ঢাকায় আসছে ৫৬ পর্যবেক্ষকের দল

ফেব্রুয়ারিতে হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ এক বাঁকবদলের ক্ষণ পার করছে বাংলাদেশ, যা ঘিরে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বিশ্বের দৃষ্টি এখন বাংলাদেশের দিকে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন গুরুত্ব পাচ্ছে বিশ্ব গণমাধ্যমগুলোতেও। গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হতে যাওয়া প্রথম কোনো এই জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে সক্রিয় হচ্ছেন বিদেশি পর্যবেক্ষকরা। গত বছরগুলোর তুলনায় এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বড় পরিসরে অংশ নিতে যাচ্ছেন তারা। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবার বড় পরিসরে পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ২০০৮ সালের পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মিশন। সবার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিতে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা কালবেলাকে জানান, আসন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণে গত মঙ্গলবার ৩০টি বিদেশি রাষ্ট্রকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে ৪টি বিদেশি সংস্থাকেও। তাদের মধ্যে এখনো কারও কাছ থেকেই উত্তর আসেনি। তবে ইইউর পক্ষ থেকে ১৭৭ জন পর্যবেক্ষকের একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ মিশন সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ছাড়া ভোটের একেবারে কাছাকাছি সময়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৭ জন সদস্যও আসবেন বাংলাদেশে। তারা মূলত ভোটগ্রহণের কাছাকাছি সময়ে ভোটের মাঠের নিরাপত্তা ও নির্বাচনের সর্বশেষ পরিস্থিতি বুঝতে ঢাকায় আসবেন। এ সময় তারা তাদের পর্যবেক্ষক মিশনের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করবেন এবং নির্বাচনী পরিবেশের বিভিন্ন দিক মূল্যায়ন করবেন। এসব নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করতে আগামী ৮ জানুয়ারি ঢাকায় আসছেন এই মিশনের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভার্স ইজাবস। একই সূত্র আরও জানায়, তিনি ঢাকায় এসে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি। আগামী ৮ জানুয়ারি ঢাকায় এসে ওইদিনই বিকেলে সিইসির সক্ষে সাক্ষাতের মাধ্যমে ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন প্রধান ঢাকায় তার কার্যক্রম শুরু করবেন। ইভার্স ইজাবস ১২ জানুয়ারি ফিরে গিয়ে ভোটগ্রহণের আগে আগে আবারও আসবেন। ইইউর এই মিশন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করবে বলে জানিয়েছেন চিফ অবজারভার ইজাবস।

বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে বিদেশি পর্যবেক্ষকে আস্থা: রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোট এলেই ছোট রাষ্ট্রগুলোর নির্বাচন নিয়ে মাথা ঘামানো পশ্চিমাদের জন্য নতুন নয়। অন্যদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিদেশি পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণ নির্বাচনকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে। তাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চাইছে এ নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি যেন বেশি হয়। পর্যবেক্ষক দল পাঠিয়ে স্বাধীনভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয়সহ গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি দেশকে এরই মধ্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জানতে চাইলে সরকারের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে এই প্রথম কোনো নির্বাচন হতে যাচ্ছে। তাই এই নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পক্ষের অনাস্থা প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে; কিন্তু বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি বেশি হলে তা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আস্থা বাড়াবে। বিদেশি পর্যবেক্ষকরা নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে সঠিক মূল্যায়ন করবেন—এমনটিই প্রত্যাশা থাকে অনেকেরই। এমন প্রেক্ষাপটে এরই মধ্যে ইইউ এবং ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটসহ (আইআরআই) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা পর্যবেক্ষক পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা আরও বলেন, বাংলাদেশে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন নিশ্চিত এবং মানবাধিকারের প্রতি ইইউর সমর্থনের উদাহরণ আসন্ন নির্বাচনে বড় পরিসরে তাদের পর্যবেক্ষক পাঠানো। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই মিশনের গভীরতা শুধু পর্যবেক্ষণে সীমাবদ্ধ নয়; ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ সংকটময় রূপান্তরকাল অতিক্রম করছে; যেখানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সমর্থনের মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখা দরকার। ইইউর মিশন একটি ক্যাটালিস্ট হিসেবে কাজ করতে পারে, যা নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ করে তুলে দেশে গণতান্ত্রিক কাঠামোর বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে। ইইউর যদি এই নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক মনে হয়, তাহলে তাদের বিবৃতি পুরো বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে সুষ্ঠু হিসেবে তুলে ধরবে।

ধাপে ধাপে পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে ইইউ: ২০০৮ সালের পর ইইউর পক্ষ থেকে এই প্রথম এত বড় পরিসরে পর্যবেক্ষকদের পাঠানো হচ্ছে। বিস্তারিত পরিকল্পনায় ধাপে ধাপে এসব পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরই মধ্যে ইইউর সঙ্গে হয়েছে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি, যার আওতায় পর্যবেক্ষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। তারা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন। মতবিনিময় করবেন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং অন্য অংশীজনের সঙ্গে। ভোটগ্রহণ শেষে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং পরে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও কিছু সুপারিশ দেবে এই মিশন। প্রথম দলটি আসার কথা রয়েছে আগামী সপ্তাহে, যাতে থাকবেন ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক। তারা নির্বাচনী প্রস্তুতি, ভোটার তালিকা যাচাই, প্রচারণা এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন। পরবর্তী ধাপে যোগ দেবেন আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক। বাকি পর্যবেক্ষকরা হবেন স্থানীয়দের মধ্য থেকে, যারা বিদেশিদের সঙ্গে মাঠে কাজ করবেন।

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কূটনৈতিক কালবেলাকে বলেন, ‘ইইউর এই মিশন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াবে। অতীতে দেশে হওয়া নির্বাচনগুলোতে ভোটারদের ভোটদানে বাধা, ভোট কারচুপি এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। ইইউর পর্যবেক্ষকরা প্রচারণা থেকে শুরু করে ভোট গণনা পর্যন্ত সবকিছু নজরে রাখবেন, যা এমন অভিযোগ কমাতে সাহায্য করবে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও নিরপেক্ষ এবং ভোটাররা আস্থার পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সন্দেহ-সংশয় দেখা দিয়েছে। ইইউর এই পর্যবেক্ষণ মিশন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করবে।’

আওয়ামী লীগ ও জোট দলগুলো নিয়ে যা ভাবছে ইইউ: ইইউর মিশন নির্বাচনকে ইনক্লুসিভ (অন্তর্ভুক্তিমূলক) করার ওপর জোর দিয়েছে। অর্থাৎ সব দলের অংশগ্রহণের কথা বলা হচ্ছে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানও অন্তর্বর্তী সরকারকে চিঠি দিয়ে সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনের পরামর্শ দিয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। যদিও আন্তর্জাতিক কিছু কিছু বিশ্লেষক মনে করেন যে, এটি নির্বাচনের ‘অংশগ্রহণমূলক’ দিকটিকে প্রভাবিত করতে পারে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। ইইউর মিশন নির্বাচনের পর যে প্রতিবেদন প্রকাশ করবে, তাতে রাজনৈতিক সব মতের অন্তর্ভুক্তি, দলগুলোর অংশগ্রহণ এবং প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা মূল্যায়ন করা হবে। যদি আওয়ামী লীগের এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করতে পারার বিষয়টি নির্বাচনের স্বচ্ছতা বা অন্তর্ভুক্তিতে বাধা সৃষ্টি করে বলে মনে হয়, তাহলে মিশনের প্রতিবেদনে তা উল্লেখ হতে পারে।

তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র কালবেলাকে জানিয়েছে, ইইউর পর্যবেক্ষকরা আওয়ামী লীগের অংশ নিতে না পারা নিয়ে সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। পরিবর্তে, তারা সামগ্রিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং সংস্কারকে সমর্থন করছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সঙ্গে অতীতে জোট করা দলগুলোর নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়েও প্রকাশ্যে কিছু বলেনি।

যদিও সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, যেহেতু জাপাসহ অতীতে জোট করা দলগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ নয়, ফলে তাদের বাদ দিয়ে যেন নির্বাচন না হয় সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইইউ চায় এ দলগুলো আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিক। ইইউ পর্যবেক্ষকদের ভাবনা মূলত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গুণগত মানে কেন্দ্রীভূত, যাতে সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। মিশনটি এখনো পুরোপুরি সক্রিয় হয়নি এবং তারা পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ইইউর ভাবনা: ইইউ বাংলাদেশের একটি বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পর তাদের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নতুন মাত্রা পাবে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, তাদের পর্যবেক্ষক মিশনের সফলতা দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করবে, বিশেষ করে গার্মেন্টস সেক্টর এবং রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতিতে। যদি মিশনের প্রতিবেদন ইতিবাচক হয়, তাহলে ইইউসহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে, যা বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে পারে। গত বছর সরকার পরিবর্তনের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশে কোনো বড় বিনিয়োগ আসেনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, বড় বিনিয়োগের কথা ভাবছে অনেক দেশই, তবে তাদের প্রত্যাশা নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার। ফলে সেভাবে গত এক বছরে বিনিয়োগ আসেনি। ইইউ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের অংশ হিসেবে দেখছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, যদিও ইইউর সামগ্রিক ভাবনা ইতিবাচক, তবে কিছু উদ্বেগও রয়েছে, যা পরোক্ষভাবে প্রকাশও পেয়েছে। ইইউ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ (যেমন ভোটার দমন বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ) নিয়ে সতর্ক। মিশনের প্রতিবেদনে (প্রাথমিক এবং চূড়ান্ত) এসব ইস্যু মূল্যায়ন করা হবে, যা নির্বাচন-পরবর্তী আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রভাবিত করতে পারে।

ইইউর ভাবনা হলো, এই নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য নতুন গণতান্ত্রিক যুগের সূচনার একটি সুযোগ। তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সমর্থন করছে এবং নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য করতে সহায়তা দিচ্ছে; কিন্তু অংশগ্রহণমূলকতা এবং অন্তর্ভুক্তির অভাব নিয়ে সম্ভাব্য উদ্বেগ রয়েছে। যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, তাহলে ইইউর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। তবে, যদি অনিয়ম পাওয়া যায়, তাহলে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে পারে। ইইউর মিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন (নির্বাচনের কয়েক মাস পর) এ ভাবনার চূড়ান্ত প্রতিচ্ছবি তুলে ধরবে।

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নিয়ে চ্যালেঞ্জ: দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ এখনো অস্থির উল্লেখ করে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং অন্য দলগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় তাদের অংশগ্রহণ না নিতে পারাও একটি বড় ইস্যু। ইইউর পর্যবেক্ষকরা যদি কোনো অনিয়ম খুঁজে পান, তাহলে তাদের প্রতিবেদনে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তা উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও সংযত আচরণ করতে হবে; কিন্তু যদি প্রতিবেদন নেতিবাচক হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে পারে, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। এ ছাড়া ইইউর মিশন মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের ওপর জোর দেবে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অতীতে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইইউর মিশনের সুপারিশগুলো অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের দিকে অগ্রসর হতে সহায়ক হতে পারে, যেখানে সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। ফলে সার্বিকভাবে, ইইউর এ কার্যক্রম বাংলাদেশের জন্য একটি সুযোগ এবং চ্যালেঞ্জ উভয়ই। এটি নির্বাচনকে সুষ্ঠু করে তুলে দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে নতুন গতি দিতে পারে; কিন্তু সফলতা নির্ভর করবে অভ্যন্তরীণ সহযোগিতার ওপর। আসন্ন এই নির্বাচন শুধু একটি ভোটগ্রহণ নয়, এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা। ইইউসহ বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নির্বাচনী পরিবেশকে স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে বলে সবাই আশা করছেন, যা শেষ পর্যন্ত একটি নতুন গণতান্ত্রিক যুগের সূচনা করতে পারে।