‘যে জাতীয় পার্টি স্বৈরাচার তৈরি করেছে, তারা যেন কোনোভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে, সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানাই। জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন করতে দেওয়া স্বৈরাচারকে পুনর্বাসন বা এজেন্সির খেলা’—এ মন্তব্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনের।
আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
আইনের ফাঁকফোকর দেখিয়ে ইসি জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোটভুক্ত হওয়া নিয়ে এনসিপি থেকে যাঁরা পদত্যাগ করেছেন, তাঁদের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি বলে জানান দলটির সদস্যসচিব।
জোটের আসন ভাগাভাগি এবং এই জোট সরকার গঠনের সুযোগ পেলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান আখতার হোসেন।
সংস্কার প্রস্তাবনা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি একে অপরের ন্যাচারাল এলাই (অকৃত্রিম সহযোগী) বলে উল্লেখ করেন আখতার।
একই সঙ্গে সংস্কার, বিচার নিশ্চিতকরণ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এই দুই দলের জোট গঠনকে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে দেখছে বলে জানান দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া।
সংবাদ সম্মেলনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে এনসিপির ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন ও সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করে। এই আলোচনার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া। তিনি বলেন, ‘আজকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে নির্বাচনের প্রস্তুতি, পরিবেশ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহায়তা নিয়েও কথা হয়েছে। এ ছাড়া জোট ও রাজনীতি নিয়ে কথা হয়েছে।’
জাকারিয়া জানান, এনসিপি মার্কিন প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চেয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কারিগরি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। জাকারিয়া বলেন, ‘তারা (মার্কিন দূতাবাস) আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে জানতে চেয়েছে জোট গঠনের লাভ ও ক্ষতি নিয়ে। আমরা বলেছি সংস্কার প্রশ্নে সমমনা দল হিসেবে আমাদের মিল আছে। তাদের নিয়ে এটা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। বিচার প্রশ্নেও আমাদের ঐক্য আছে, নির্বাচনের পর বিচার নিয়ে কোনো আপস হোক, সেটা আমরা চাই না। আমাদের দেশের মানুষ ঐতিহাসিক কারণে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। ওনারা আমাদের ভাবনার প্রশংসা করেছেন। আমাদের জোটের প্রশ্নে তাঁদের ইতিবাচক দেখেছি।’
সংবাদ সম্মেলনে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসনের বিষয়ে আখতার বলেন, ভেনেজুয়েলার ঘটনা আন্তর্জাতিক রীতিনীতিবহির্ভূত। পৃথিবীর প্রতিটি দেশকেই আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা উচিত।