জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করে আসন ভাগাভাগির আলোচনা এগিয়ে চললেও নির্বাচনে জিতলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, সে বিষয়ে কোনো ফয়সালা এখনো হয়নি বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
আজ রোববার রাজধানীর বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে আখতার হোসেন বলেন, তাঁদের মনোযোগ এখন শুধু নির্বাচনের দিকে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের গড়া দল এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোট গড়ে এই নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে। জামায়াতের সঙ্গে জোটে আরও কয়েকটি ইসলামী দল রয়েছে। এই জোটে যুক্ত হওয়ার পর এনসিপির ডজনখানেক নেতা ইতিমধ্যে দল ছেড়েছেন।
জামায়াতের সঙ্গে জোটে এনসিপি ৩০টি আসন পাচ্ছে বলে খবর ছড়িয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আখতার হোসেন বলেন, আসন বণ্টনের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে জামায়াতের সঙ্গে তাঁদের আলোচনা চলমান।
৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার পর জামায়াতের সঙ্গে জোট গড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আখতার হোসেন বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের কারণে জোটে গিয়েছেন তাঁরা। জুলাই সনদ অনুসারে সংস্কার কতটুকু বাস্তবায়ন হবে, তা এনসিপির একার পক্ষে সম্ভবপর হবে না, তাই তাঁরা সমমনা দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছেন।
এ জোট ভোটে জিতে যদি সরকার গঠন করে, তাহলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, এ নিয়েও তাঁদের আলোচনা অব্যাহত আছে। আলোচনা শেষে তাঁরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। আপাতত নির্বাচনী বৈতরণি পার করতে চান তাঁরা।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটে যাওয়ার পর এনসিপি থেকে কয়েকজন নেতার পদত্যাগ দলের ওপর ‘ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করেছে’ মন্তব্য করে আখতার হোসেন বলেন, তবে তাঁদের পদত্যাগপত্রের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি এনসিপি।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদেরও দিলেন জোটের ব্যাখ্যা
আজ বিকেলে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এনসিপি নেতারা। এরপরই সংবাদ সম্মেলনে আসেন এনসিপির সদস্যসচিব। তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার পটভূমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরেছেন তাঁরা। আর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জনগণের যেকোনো সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখে।
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়বস্তু সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তুলে ধরেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সেলের প্রধান সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া। তিনি বলেন, বৈঠকে নির্বাচনের প্রস্তুতি, ঝুঁকি ও যুক্তরাষ্ট্রের করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশে সুশাসন ও গণতন্ত্র নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে।
এনসিপি, এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ে নতুন রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ
জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে জানিয়ে আখতার হোসেন বলেন, জোটের কারণ হিসেবে চারটি বিষয় তাঁরা তুলে ধরেছেন বৈঠকে। এর মধ্যে সংস্কার নিয়ে একসঙ্গে আসার চেষ্টা, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস না করা, আধিপত্যবাদবিরোধী আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এনসিপির উদ্বেগ এবং ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড তাঁদের শঙ্কিত করেছে। তাই সম্মিলিত প্রতিরোধের জন্য তাঁরা জোট করেছেন।
জোটের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ইতিবাচক মনোভাব দেখতে পেয়েছেন বলে জানান এনসিপি নেতা সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত এনসিপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে গত মাসের শুরুতে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে নিয়ে জোট গঠন করেছিল। তার এক মাসের মধ্যে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।
বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথাও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন বলে জানান সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া। বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বড় দলের সহিংসতার বিষয়ে তাঁরা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখলের আশঙ্কা নিয়ে জানতে চেয়েছিলেন। জবাবে তাঁরা বলেন, এটা উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়।
নির্বাচনী মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতের অভিযোগ তোলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টিকে নিয়ে আপত্তির কথাও জানান তিনি। জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে আনাকে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ও ‘এজেন্সির খেলা’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের সহযোগী হিসেবে জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।