হবিগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব মাহদী হাসানের মুক্তির দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়েছিলেন সংগঠনটির একদল নেতাকর্মী। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধ প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত সোয়া ১২টার দিকে তুলে নেওয়া হয়।
শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার রাত ১২টা ২৩ মিনিটে নিশ্চিত করেন যে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা শাহবাগ ত্যাগ করেছেন। তিনি জানান, “ওরা ৫-৭ মিনিট আগে শাহবাগ ছেড়েছে।” বর্তমানে ওই এলাকায় যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
এর আগে রাত ১০টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে মাহদী হাসানের মুক্তির দাবিতে সবাইকে শাহবাগে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হবিগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব মাহদী হাসানের মুক্তির দাবিতে সকলকে শাহবাগে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে।” সেই ডাকে সাড়া দিয়ে রাত পৌনে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা শাহবাগে অবস্থান নেন। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
মূলত গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় মাহদী হাসানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ভেতরে ওসির সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে মাহদী হাসান নিজেকে ছাত্র আন্দোলনের নেতা পরিচয় দিয়ে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম।”
শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসির সামনে বসে দেওয়া এমন হুমকিসূচক বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মাহদী হাসানকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।