বাসা-বাড়িতে বেশি ব্যবহার হওয়া ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে রাজধানী ঢাকার কোথাও কোথাও প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে।
এমন প্রেক্ষাপটে শনিবার সন্ধ্যায় জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তরফে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা বলেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, তিনি সন্ধ্যায় বিইআরসি ও বিপিসিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
“আমি বিষয়টা পরিষ্কারভাবে বুঝতে চেষ্টা করছি। আজ আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করব, জ্বালানি সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে।”
সরকার নির্ধারিত দামে কখনই এলপিজি সিলিন্ডারের গ্যাস কিনতে পাওয়া যায় না। খুচরায় অন্তত দুইশ টাকা বেশি গুনতে হয় ক্রেতাদের। এখন যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে বাড়তে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি খাতের মূল্য নির্ধারণকারী সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ডিসেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করেছিল ১,২৫৩ টাকা।
কিন্তু রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় এ পরিমাণের গ্যাসের সিলিন্ডার ১,৮০০ থেকে ২,২০০ টাকা, কোথাও আরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।
অনেক জায়গায় আবার বাড়তি দাম দিয়েও সিলিন্ডার মিলছে না। এতে বাসাবাড়িতে খাবার রান্না করা নিয়ে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন এলপিজি ব্যবহারকারীরা। পাইপলাইনের গ্যাস নেই কিংবা চাপ না থাকায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানেই অনেকে এলপিজি ব্যবহার করে থাকেন।
হঠাৎ করে সংকট ও দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে খুচরা বিক্রেতারা ডিলারদের দোষ দিচ্ছেন।
এর বিপরীতে এলপিজি পরিবেশক ও অপারেটরগুলোর সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে, গত মাসে (ডিসেম্বরে) আমদানি কমে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
‘সরবরাহ নেই, ডিলাররা চাচ্ছে অস্বাভাবিক দাম’
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক দিনে ঘুরে নির্ধারিত দামের আশপাশে এলপিজি না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। কোথাও সরবরাহ নেই, এই যুক্তিতে খুচরা বিক্রেতারা এক লাফে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেশি চাইছেন বলে অভিযোগ। কোথায় কোথায় বাড়তি নেওয়া হচ্ছে এক হাজার টাকাও।
যাত্রাবাড়ীর কাজলার রিফা এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর মো. পাবেল বলেন, “১০ দিন আগে যে গ্যাস ১২৫০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন তা ২২০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। গত ২৬-২৭ ডিসেম্বর থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে আসে। আস্তে আস্তে দাম বাড়তে শুরু করেছে। এখন ২২০০ টাকায় এসে ঠেকেছে।"
দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “সিলিন্ডার গ্যাসতো বাইরে থেকে আসে। এখন মাল নিয়ে জাহাজ আসতে পারছে না বলে জানিয়েছেন ডিস্ট্রিবিউটররা। এ কারণে সরবরাহ কম।”
মোহাম্মদপুরের আদাবরের রহমতুল্লাহ এন্টারপ্রাইজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা মিজানুর রহমান বলেন, “গত দুই দিন ধরে আমাদের এলাকায় কোনো গ্যাস সিলিন্ডারের সরবরাহ নেই। ছোট–বড় কোনো সিলিন্ডারই ডিলাররা দিচ্ছে না। ফোন করলে তারা ধরছে না, আর ধরলেও অস্বাভাবিক দাম বলছে।”
তার দাবি, “ডিলাররা ১২ কেজির সিলিন্ডারের জন্য আমাদের কাছ থেকেই ১,৮০০ টাকা চাইছে। তাও আবার দুই–চারটার বেশি দিতে চায় না। এই অবস্থায় আমরা সিলিন্ডার আনা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি।”
সরকার নির্ধারিত দামের বিষয়ে তিনি বলেন, “সরকার যে দাম নির্ধারণ করেছে, সেটাতে আমরা নিজেরাই গ্যাস পাই না। গত মাসে ১,২৫৩ টাকা নির্ধারণ থাকলেও আমাদের ১,২৮০–১,৩০০ টাকায় কিনতে হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমরাই এখন সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। ডিলাররা ইচ্ছেমত দাম বাড়াচ্ছে।”