Salahuddin Ammar (সালাহউদ্দিন আম্মার)
ভারতের সিনেমাতে একসময় বাংলাদেশের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা অভিনয় করত, আবার বাংলাদেশের বিভিন্ন সিনেমায় বা নাটকেও ইন্ডিয়ান মুখদের দেখা যেত। সেটা ততক্ষণ পর্যন্ত চলল যতক্ষণ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বলয় ও নাটকের উচ্চমান ঠিক ছিল।
বিদেশি সিনেমায় অভিনয় করার সুযোগ পেয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে আমাদের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা ওপার বাংলায় পাড়ি জমাত। কিন্তু এটা ছিল ভারতের সাংস্কৃতিক গুপ্তচরবৃত্তি। তারা যখন বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে একে একে তাদের বিশাল সাংস্কৃতিক বলয় পুশ করতে করতে সিনেমা, নাটক ও বাঙালি সংস্কৃতি ধ্বংস করতে সক্ষম হলো, তখন তারা বাংলাদেশে ইনভেস্ট করা কমিয়ে দিল।
উর্দু রাষ্ট্রভাষা চাই না বলে বাংলা ভাষার জন্য জীবন দেওয়া এই জাতি আমরা বাংলা ভাষা ঠিকমতো না বলতে পারলেও ২ বছরের বাচ্চাও এখন হিন্দিতে কথা বলতে পারে। এটাকেই সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ বলে। এর বাইরে কি আপনি বা আমি? না!!
আমি, আপনি সাংস্কৃতিক জীব হিসেবে নিজ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন ধ্বংস তাই ওপারের সংস্কৃতি ধার করে দিন পার করছি, কারণ ওই যে ভারত আমাদের বন্ধু!!
জি বাংলার "মিরাক্কেল" একটি জনপ্রিয় শো ছিল যেখান থেকে আমাদের বাংলাদেশের আবু হেনা রনি, সজল, পাভেলসহ অনেকে উঠে এসেছে। একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে আমিও চাইতাম মিরাক্কেলে অংশগ্রহণ করতে কিন্তু একসময় দেখা গেল বাংলাদেশ থেকে তারা প্রতিযোগী নেওয়া বন্ধ করে দিল। এটা কেমন ব্যাপার জানেন? আমি তোমাকে দেখালাম আমার সাংস্কৃতিক বলয়ে তোমরা কতটা নির্ভরশীল।
মিরাক্কেলের মতো একটা শো বানাতে পেরেছে বাংলাদেশ?
উত্তর হলো -না!
সারেগামাপা আসরে একসময় বাংলাদেশ থেকে প্রতিযোগী নেওয়া হতো। নোবেল চ্যাম্পিয়ন হবে, এমন সময় রাজনীতি করে তাকে রানার্স-আপ বানানো হয়েছিল। এই রাজনীতিও তখন আমাদের মিডিয়াপাড়ার কল্যাণে আমরা দেখতে পেয়েছি। এর বিকল্প একটি কম্পিটিশন বাংলাদেশ নামাতে পেরেছে?
সর্বশেষ আইপিএল-এ কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিয়ে তারা বাংলাদেশের খেলাধুলা অঙ্গনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাল। এর কারণ হলো বাংলাদেশের বিপিএল-এর মানহীন আসরগুলোর কারণে দেশের ক্রিকেটাররা এগুলো থেকে ডিটাচড্। এর দায় ক্রিকেটারদের না, সবাই চায় নিজেকে মানসম্পন্ন প্রমাণ করতে। বাংলাদেশ ক্রিকেটে ভয়াবহ দুর্নীতি, সেটাও রিমোট কন্ট্রোলড বাই ইন্ডিয়া।
ভারতের দেখানো এই বৃদ্ধাঙ্গুলির জবাব আমরা এখনও দিতে পারি। ক্রিকেটপ্রেমীদের তালিকায় শীর্ষে বাংলাদেশ। ভারতের আইপিএল আসর বাংলাদেশ সরকার সম্প্রচার বন্ধের বীরত্ব দেখাতে পারবে? পারবেন ইন্টেরিম?
এটা জাস্ট সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার ভারতীয় আধিপত্য নিয়ে ছোট্ট একটা লেখা। কেউ ফটোকার্ড করলে পুরোটা দিয়ে করবেন, আনকাট।
আমরা ভারতীয় আধিপত্যবাদ চোখে দেখি না কিন্তু জাস্ট উপরের ৩টি বিষয় অ্যানালাইসিস করে দেখেন অনেক বিষয় ক্লিয়ার হবেন।
শহীদ ওসমান হাদি তাদের টার্গেট হয়েছেন আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার থেকেও বড় ভারতীয় ও পশ্চিমা সংস্কৃতিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে দেশি সংস্কৃতির লড়াই করতে চেয়েছেন বলে।
এখনও বলছি ইন্ডিয়া বাংলাদেশ সীমান্তের ইসরায়েল, তারা ঠিক ফিলিস্তিনের মতো আমাদেরও একইভাবে গ্রাস করতে চায়। আজ অনেকের কাছে আমার লেখাটা ভালো নাও লাগতে পারে, যখন এটা বাস্তবে ঘটবে আমি দুনিয়ায় নাও থাকতে পারি, তবে আলাপগুলো মিলিয়ে নিয়েন।
পেতে চাইলে মুক্তি
ছাড়ো ভারত ভক্তি!!