Image description

বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকের বিরুদ্ধে ভোটারদের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এ সংক্রান্ত একটি তদন্ত প্রতিবেদন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছেও পাঠিয়েছেন।

জানা গেছে, গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচনের জন্য গত ২৯ ডিসেম্বর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। নির্বাচনী বিধান অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে ওই আসনের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর নিয়ে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে অভিযোগ, এর মধ্যে একাধিক ভোটারের স্বাক্ষর জাল করেছেন তিনি।

সরেজমিনে, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ও রাধাগঞ্জ ইউনিয়নে গিয়ে এই স্বাক্ষর জালের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। 
সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের টিকরীবাড়ি গ্রামের মিলন সেনের স্ত্রী যমুনা সেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) আমার কাছে প্রশাসনের লোক এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকের পক্ষে স্বাক্ষর করেছি কিনা জানতে চেয়েছিলেন। যমুনা সেন বলেন,  আমি তাদেরকে বলেছি, গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক নামে আমি কাউকে চিনি না, কোনদিন তার নামও শুনিনি। আমি তার কোনো কাগজে স্বাক্ষর করিনি। আমার স্বাক্ষর যদি কেউ দিয়ে থাকে সেটি সে জাল করেছে।

রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের গোলাবাড়ি গ্রামের সুনীল বাড়ৈর স্ত্রী উষা বাড়ৈ বলেন, আমি ঢাকায় আমার ছেলের বাসায় ছিলাম। গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক নামে কাউকে চিনি না। আমি তার কোন কাগজেও স্বাক্ষর করিনি। কিন্তু মনোনয়নপত্রে নাকি আমার স্বাক্ষর রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমার পক্ষে যারা স্বাক্ষর দিয়েছেন, তারা সকলেই সঠিকভাবে স্বাক্ষর করেছেন। জাল স্বাক্ষরের বিষয়টি সত্য নয়। সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের স্বাক্ষরের বিষয়ে তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠিয়েছি। তিনি পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।