Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী- ৫ (রায়পুরা) আসনে বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুলকে মনোনয়ন দেওয়া ধানের শীষ প্রতীক ছিনিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন জেলা বিএনপি নেতা জামাল আহমেদ চৌধুরী।

গত ১৩ অক্টোবর (সোমবার) সন্ধায় রায়পুরা পৌরসভা মাঠে ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’ বাস্তবায়ন লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় জামাল আহমেদ চৌধুরী এ হুঁশিয়ারি দেন। আর এই হুঁশিয়ারির সত্যতাও মিলেছে মনোনয়নপত্র জমাদানের মাধ্যমে।

তিনি গত সোমবার নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও রির্টানিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন এর কাছে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

নরসিংদী- ৫ (রায়পুরা) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ কমিটির উপদেষ্টা।

তফসিল ঘোষণার পূর্বে বকুলকে প্রতিহত করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন রায়পুরা উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফাইজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান খোকন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জামাল আহমেদ চৌধুরী, জেলা যুবদলের সভাপতি ও জেলা বিএনপি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসিন হোসেন বিদ্যুৎ, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল আমিন ভূঁইয়া রুহেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এন জামান, স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বাদল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হক ভূঁইয়া মোহন, সহ-কোষাধ্যক্ষ আব্দুল কুদ্দুস, সদস্য ইফতেখার আহমেদ ভূঁইয়া ইতু।

আর দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পরও বকুলকে প্রার্থী হিসেবে পরিবর্তন করার দাবিতে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল আমিন ভূঁইয়া রুহেল এর নেতৃত্বে একাধিক সভা সমাবেশ, ঝাড়ু মিছিল, মশাল মিছিল ও গাড়ি মিছিল করা হয়েছে। এরপরও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি এখনো পর্যন্ত বকুলের মনোনয়নই ঠিক রেখেছেন।

এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নরসিংদী জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি জামাল আহমেদ চৌধুরী জানান, এখন যে যার মতো মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে যাচ্ছেন। পরবর্তীতে দল যদি বলে রাখতে বা তুলে ফেলতে বলে তখন তা দেখা যাবে। কারণ দল আমার মনোনয়নপত্র রাখতেও পারেন।

রায়পুরা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান খোকন জানান, তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ বা জমাদানের আগে পরে আমরা কিছুই জানি না। উনার সাথে এবিষয়ে কথা হয়নি। তিনিতো উপজেলা বিএনপির কিছু না জেলা বিএনপির নেতা। জেলা বিএনপি যা মনে করে তাই করবে।

 

জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন বলেছেন, আমাদের কেন্দ্র থেকে প্রতি আসনে একজন করেই প্রার্থী দিয়েছেন। আমাদের হয়ে কেউ স্বতন্ত্র থেকে মনোনয়নপত্র জমাদের কোন সুযোগ নেই। তবে যদি কেউ দিয়ে থাকে তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।