আনুমানিক রাত সাড়ে ১১ টার সময় অর্থাৎ থার্টিফার্স্ট নাইটের প্রায় মধ্যরাতে রাজবাড়ী জেলার সদরের বিনোদপুরের কলেজপাড়ায় (পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডে) মোঃ শফিকুল ইসলামের জমজ ছেলেদের একজন সিফাত (১২ বছর) বিবাদমান দুই পক্ষের সংঘর্ষের ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে।
গুলিটি শিশু সিফাতের পেটের উপরের অংশে বক্ষপিঞ্জরের ঠিক নিচে একটি গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে ও প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। এ সময় সিফাত মাটিতে লুটিয়ে পরে। পরে সিফাতের মা আশে পাশের মানুষের সহায়তায় শিশুটিতে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ মোঃ নুরুল আজম শিশুটিকে তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা করেন এবং দ্রুত সার্জারী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ রাজীব দে সরকারকে ডেকে নিয়ে আসেন। সৌভাগ্যক্রমে, সিনিয়র চিকিৎসক ডাঃ রাজীব এ সময় হাসপাতালেই অবস্থান করছিলেন।
ডাঃ রাজীব এসেই গান-শট ইঞ্জুরড অ্যাবডোমেন পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন, গুলির কারণে শিশুটির খাদ্যনালীর একটি অংশ পারফোরেশন হয়ে থাকতে পারে এবং শিশুটি বর্তমানে হাইপোভলিউমিক শকে রয়েছে। এই অবস্থা আর কিছুক্ষণ চললে শিশুটির মৃত্যু ঘটতে পারে৷ তিনি দ্রুতই শিশুটির চিকিৎসা শুরু করেন। পরবর্তীতে এই ২ জন চিকিৎসকের দীর্ঘক্ষণের আপ্রাণ চেষ্টা ও দক্ষতায় শিশুটির জ্ঞান ফেরে।
চিকিৎসকরা রিসাসিটেশনের মাধ্যমে শিশুটিকে বিপদমুক্ত করেন এবং ভাইটাল সাইনস সুনিশ্চিত করেন। জরুরি বিভাগের সকল সেবিকা ও কর্মচারীগণ এ সময় শিশুটিকে সেবা প্রদানে একত্র হন। ফলে শিশুটি হাইপোভোলিউমিক শক থেকে ফিরে আসে।
শিশুটির শারীরিক অবস্থা কিছুটা ভালোর দিকে যাওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে পরবর্তী স্তরের চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
শিশুর মা জানান, “বালু মহল নিয়ে সংঘর্ষের জের ধরে বাসার আশে পাশে ভাঙচুর ও গুলি বিনিময়ের এক পর্যায়ে আমার বাচ্চার পেটে গুলি লাগে। সদর হাসপাতালের ডাক্তাররা সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু না করলে আমার বাচ্চাকে আমি ফিরে পেতাম না”
শিশুর বাবা জানান, আমার শিশুর চিকিৎসা সম্পন্ন হবার পরে চিকিৎসকদের মেডিকেল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে আমরা আইনী সহায়তা গ্রহণ করবো।
শীর্ষনিউজ