Image description

উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি বিভাগের দায়িত্ব পেয়েছেন, যে বিভাগগুলোতে বিগত আওয়ামী লীগ আমলে সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দের সিংহভাগ অর্থ ব্যয় হয়েছে। এবং লুটপাটও হয়েছে লাগামহীন। আওয়ামী আমলে রেল বিভাগের দুর্নীতি-লুটপাট বহুল আলোচিত একটি বিষয়। খোদ শেখ হাসিনা-রেহানাসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই খাত থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন হাজার হাজার কোটি টাকা। লুটপাটের সুযোগ করে দিয়ে এর ভাগবাটোরার একটি অংশ পেয়েছেন রেল বিভাগের কর্মকর্তারাও। মানুষ আশা করেছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সেইসব লুটপাটের বিচার হবে। দুর্নীতিবাজদের শাস্তি হবে। বিশেষ করে মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এই বিভাগের দায়িত্ব পাওয়ার পর সবাই আশাবাদী হয়েছিল যে, দুর্নীতির তথ্য উদঘাটন হবে এবং দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। কারণ, তিনি নিজেকে একজন সৎ ব্যক্তি হিসেবে বক্তব্য-বিবৃতি ও লেখালেখিতে দাবি করে এসেছেন বরাবর।

উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর শুরুর দিকে সেই রকমেরই কিছুটা ভূমিকা ছিল তাঁর। রেল বিভাগের অভ্যন্তরীন বৈঠকে, কার্যক্রমে এবং বক্তব্য-বিবৃতিতে এমন ভাবই প্রকাশ করছিলেন। কিন্তু এক পর্যায়ে হঠাৎ করেই দেখা গেলো, তিনি সম্পূর্ণ পাল্টে গেছেন। রেল বিভাগের শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদেরই কাছে টেনে নিলেন। আওয়ামী লীগ আমলে রেল বিভাগের লুটপাটের প্রকল্পগুলোর সবচেয়ে সেরা প্রকল্প হলো পদ্মা রেল সেতু নির্মাণ প্রকল্প। এ প্রকল্পের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত যিনি ছিলেন লুটপাটের মাস্টারমাইন্ড এবং যার হাত দিয়ে প্রকল্পের সিংহভাগ বিল পরিশোধ হয়েছে সেই শীর্ষ দুর্নীতিবাজ পিডি মো. আফজাল হোসেনকে তিনি এনে বসিয়েছেন রেল বিভাগের সর্বোচ্চ পদে। তাও অন্য দু’জন কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে। এর মধ্যে একজন রয়েছেন, যিনি মেধা তালিকায় আফজাল হোসেনের ব্যাচের প্রথম ব্যক্তি। ৩য় গ্রেডে পদোন্নতি পেয়েছেন অনেক আগে। এমনকি রেল বিভাগে তুলনামূলক সৎ হিসেবেও তার কিছুটা পরিচিতি রয়েছে। কিন্তু সৎ দাবিদার উপদেষ্টা চাকরিতে ও পদে জুনিয়র, শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকেই পছন্দ করলেন! উপদেষ্টার এমন অসৎ বা দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে অবাক হয়েছেন রেল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে এতে অত্যন্ত খুশি হয়েছেন রেলের অন্যান্য দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা, যারা অতীতে আওয়ামী লুটপাটের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ছিলেন। এবং আশংকা করছিলেন, অতীত অপকর্মের জন্য এ আমলে চাকরি তো যাবেই, আরো বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হবে তাদের। উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান তাদেরকে সেই আশংকা থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আফজাল হোসেনকে নিশ্চিত শাস্তির পরিবর্তে পুরস্কৃ ত করে।

মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বাংলাদেশ সরকারের সচিব ছিলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অঘোষিত থিংকট্যাংক এর একজন অন্যতম সদস্য হিসেবে তাঁকে ধরা হয়। মূলতঃ সেই ক্রাইটেরিয়ায়ই তিনি এ সরকারের প্রভাবশালী উপদেষ্টা হিসেবে আবির্ভুত হয়েছেন। এবং তাকে দেওয়াও হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো। কিন্তু তিনি যে সরকারের দেয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে উল্টো দুর্নীতিবাজদের কাছে টেনে নিবেন, এটা কেউ কল্পনাও করেনি!

উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ তিনি, সচিবেরও বন্ধু!

রেল সচিব পদে আছেন প্রশাসনের ১৩তম ব্যাচের কর্মকর্তা মো. ফাহিমুল ইসলাম। অর্থাৎ ডিজি আফজাল হোসেনের ব্যাচমেট তিনি। শুধু ব্যাচমেটই নন, তাঁরা দু’জন ঘনিষ্ঠ বন্ধুও বটে- আফজাল হোসেনই গর্বকরে একথা প্রচার করে। আফজাল হোসেন প্রকাশ্যেই সচিব ফাহিমুল ইসলামকে বন্ধু হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। ফাহিমুল ইসলামও তাতে সায় দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। একদিকে উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ, অন্যদিকে আবার সচিবের বন্ধু! ফ্যাসিস্ট ও লুটেরা হাসিনা-রেহানার পছন্দের শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আফজাল এমন অবস্থায় যেন হাওয়ার ওপর চলছেন! অতীত দুর্নীতি ধামাচাপা দেয়া এবং নতুন করে দুর্নীতিবাজদের সমন্বয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তোলার কাজে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন তিনি। রেলে আওয়ামী দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীদের নতুন নতুন আকর্ষণীয় পদায়নের ব্যবস্থা করছেন, যাতে সিন্ডিকেট গড়ার কাজে সুবিধা হয়।

উপদেষ্টা ও সচিবের প্রভাবে দুর্নীতিবাজ ডিজি ক্ষমতাবান। আবার ডিজি আফজাল হোসেনের ক্ষমতার প্রভাবে তাঁর ঘনিষ্ঠ জুনিয়র কর্মকর্তারা ক্ষমতাবান হয়ে এরাও নানা রকমের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে পড়ছেন। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন, ৩০তম ব্যাচের কর্মকর্তা শামীমা নাসরিন তিথি। তিনি পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পের উপপরিচালক (ব্রিজ বায়াডাক্ট) পদে আছেন। এর অতিরিক্ত হিসেবে উপপরিচালক, হেডকোয়ার্টার এর দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাঁকে এখন ডিজি আফজাল হোসেনের অঘোষিত একান্ত সচিব হিসেবেও ধরা হয়। আফজাল হোসেনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন হিসেবে সবাই তাঁকে জানেন। আফজাল হোসেন ইতিপূর্বে ঢাকা-টঙ্গী প্রকল্পে থাকাকালে শামীমা নাসরিন তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। কখনো কখনো দু’জনকে সেখানে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতেও দেখা গেছে। সেই ঘনিষ্ঠতার ধারাবাহিকতায় আফজাল হোসেন যখন পদ্মা প্রকল্পে আসেন এখানেও পদায়নের ব্যবস্থা করেন শামীমাকে। বয়স যদিও ৪০, এখনো তিনি বিয়ে করেননি।

ডিজি আফজাল হোসেনের প্রভাবে শামীমা নাসরিন তিথির দাপট এতটা বেড়েছে যে, তিনি তাঁর সিনিয়র ব্যাচের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেন। এ রকমের একাধিক অভিযোগ শীর্ষকাগজের হাতে এসেছে। দেখা গেছে, সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে অন্যায়ভাবে দুর্ব্যবহার করেছেন শামীমা। কিন্তু পরে ডিজি আফজাল ব্যবস্থা নিয়েছেন উল্টো ওই সিনিয়র কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই। শুধুমাত্র শামীমাকে খুশি করতে গিয়েই ডিজি এমনটা করছেন। যা গোটা রেল বিভাগে নানা রকমের আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে। এমন কথা চাউর আছে যে, অঘোষিত পিএস শামীমা নাসরিন তিথির কথায় রেল বিভাগের বদলি-পদায়ন হয়। অবশ্য বাস্তবেও অনেকটা তাই।

কাজ ছাড়াই শত শত কোটি টাকার ভুয়া বিল পরিশোধ শীর্ষ দুর্নীতিবাজ আফজালের হাত দিয়েই
পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পে ব্যয় হয় ৩৯ হাজার ২শ’ ৫৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের সময়ই ব্যয় ধরা হয়েছিল বাস্তবতার চেয়ে অনেক বেশি। তখন এর ব্যয় ধরা হয় ৩৪ হাজার ৯শ’ ৮৯ কোটি টাকা। তারপরও পরবর্তীতে বায় বাড়ানো হয়। এই প্রকল্পে এত বেশি দুর্নীতি হয়েছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৮০০ কোটি টাকা প্রকল্প থেকে কমিয়ে আনতে হয়েছে। আদতে এই টাকা খরচ করার কোনো জায়গা ছিল না। শুধু ভাগ-বাটোয়ারার জন্যই টাকাটা রাখা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ প্রকল্পের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই এভাবে ভাগ-বাটোয়ারা বা আত্মসাত হয়েছে। আফজাল হোসেন শুরুতে ছিলেন পদ্মা রেল সেতু নির্মাণ প্রকল্পে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি সবচেয়ে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর হাত দিয়েই প্রকল্পের সিংহভাগ বিল পরিশোধ হয়। দেখা যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে কাজ ছাড়াই অথবা কাজের অতিরিক্ত শত শত কোটি টাকার বিল পরিশোধ করেছেন তিনি। সরকারের অডিট প্রতিবেদনেই এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পের সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ১৩ হাজার ৩ শত, ৬১ কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে। তারমধ্যে ‘গুরুতর অনিয়ম’ অর্থাৎ যেগুলো মোটেই ‘মীমাংসা যোগ্য নয়’ এ রকমের অনিয়ম রয়েছে ৯ হাজার ৬ শত ৯৩ কোটি টাকা। বস্তুত, এই টাকা পুরোটাই ভাগ-বাটোয়ারা হয়েছে। প্রকল্পের পিডি হিসেবে আফজাল হোসেন এসব ভুয়া বিল পরিশোধে কমিশন ছাড়াও ভাগ-বাটোয়ারার অংশও পেয়েছেন। এর বাইরে তিনি সাব-কন্ট্রাক্টর নিয়োগেও একচেটিয়া প্রভাব খাটিয়েছেন। শুধু এই এক প্রকল্প থেকেই কামিয়ে নিয়েছেন শত শত কোটি টাকা।

শুধু পদ্মা রেল প্রকল্পেই নয়, অন্যান্য প্রকল্পেও আফজালের ভুয়া বিল ও দুর্নীতি-লুটপাট
শুধু পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পেই যে দুর্নীতি-লুটপাট করেছেন তা নয়, মো. আফজাল হোসেন চাকরি জীবনে প্রত্যেকটি কর্মস্থলেই বড় মাত্রায় দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। তবে সবচেয়ে বেশি বেপরোয়া ছিলেন তিনি বিগত বছরগুলোতে। এই সময়ে একের পর একের পর এক আকর্ষণীয় পদায়নও বাগিয়ে নিয়েছেন হাসিনা-রেহানাসহ সরকারের শীর্ষ মহলের পছন্দের কর্মকর্তা হিসেবে। পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পে পিডি পদে সবচেয়ে দীর্ঘকাল থাকার সুযোগ পেয়েছেন তিনি, ২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত।
এর আগে মো. আফজাল হোসেন ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত পদ্মা রেল প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী, জুন ২০১৮ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত খুলনা-মোংলার পিডি, ৩রা ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে ২৬ আগস্ট ২০১৯ পর্যন্ত রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী, আগস্ট ২০২০ হতে সেপ্টেম্বর ২০২১ পর্যন্ত ঢাকা-টঙ্গী ৩য় ও ৪র্থ লেন প্রকল্পের পিডি পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। ৪র্থ গ্রেডের কর্মকর্তা হয়েও সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী আওয়ামী লীগের দোসর এবং ফ্যাসিস্ট-লুটেরা শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে ২য় গ্রেডের পদ- পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের পিডি পদে নিয়োগ পান ১১ জুন ২০২১।

আফজাল হোসেন পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের পিডি, খুলনা-মোংলা রেল প্রকল্পের পিডি, পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী, ঢাকা-টঙ্গী রেল প্রকল্পের পিডি থাকাকালে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ সম্পাদন করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে আত্মসাৎ করেছেন। উপার্জিত অর্থ নিজ নামে, স্ত্রী-সন্তান, শ্যালক-শালিকা, ভাই-বোনদের নামে বিভিন্ন একাউন্ট খুলে অর্থ সঞ্চয়, ডিপোজিট স্কিম, ঢাকায় ফ্ল্যাট ও নিজ বাড়ি টাঙ্গাইলে জমি ক্রয় এবং দালান-কোঠা নির্মাণ করেছেন। আফজাল হোসেন পতিত আওয়ামী সরকারের মন্ত্রী মুজিবুল হক ও সুজনের দুর্নীতির ডানহাত হিসেবে এসব পদে কর্মরত থাকাকালে ব্যাপক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি ও লুটপাট করেছেন। মানিলন্ডারিং, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে অনেক আগে থেকেই। কিন্তু যেহেতু তিনি আওয়ামী সরকারের শীর্ষ মহলের আশীর্বাদপুষ্ট ছিলেন তাই প্রাথমিক তদন্তে দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার পরও তাঁর বিরুদ্ধে কেনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি দুদক।

সিনিয়রদের ডিঙিয়ে পদায়ন বাগিয়ে নেয়া
আফজাল হোসেনের অনেক আগে এডিজি অপারেশন নাজমুল ইসলাম ও আফজালের ব্যাচের প্রথম হওয়া কর্মকর্তা পার্থ সরকার ৩য় গ্রেড প্রাপ্ত হন। গ্রেড প্রাপ্তিতে নাজমুল ইসলাম সিনিয়র এবং আফজালের ১৩ ব্যাচের প্রথম হওয়া পার্থ সরকার গ্রেড এবং ব্যাচের সিনিয়রিটিতেও সিনিয়র। নাজমুলকে আওয়ামী যোগ ও পার্থকে হিন্দু এবং ভারতের এজেন্ট ট্যাগ লাগিয়ে নিজস্ব ঠিকাদারের সহায়তায় অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু মুখোশধারী অর্থলোভী আমলা ও সরকারি পদধারীদের বিপুল অংকের বিনিময়ে আওয়ামী সুবিধাভোগী আফজাল হোসেন শেষ ব্যবসার উদ্দেশ্যে ০৮.১২.২০২৪ তারিখে ৩য় গ্রেডের কর্মকর্তা হয়েও ১ম গ্রেডের মহাপরিচালক পদ কিনে নেন। আফজালের দেয়া বড় অংকের ঘুষের টাকার ভাগ-বাটোয়ারা প্রভাবশালী অনেকের পকেটেই গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করছে।

দুদকের তদন্ত এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ ধামাচাপা
০০.০.০০০০.৫০৩.২৬.৪৪৭.২০-৮৭৯৯ নং স্মারক ও ০৯.০৩.২০২১ তারিখের নথিতে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ বাণিজ্য, ভুয়া চালান বানানোসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত দুদকে অভিযোগ অনুসন্ধনাধীন আছে। তাছাড়া দুদকে মানি লন্ডারিংয়েরও অভিযোগ রয়েছে। পতিত আওয়ামী সরকারের আমলা ও রাজনীতিকদের তদবির এবং এর সঙ্গে বিপুল অংকের অর্থ খরচ করে নথি চাপা দেয়া রয়েছে। উক্ত নথিগুলো যথাযথ সৎ কর্মকর্তা দ্বারা অনুসন্ধান করলে সবকিছু বেরিয়ে আসবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান এবং দুদককে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের স্বার্থে আফজাল হোসেনকে ডিজি হতে অপসারণ করা এ মুহূর্তে অপরিহার্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় মহাপরিচালকের দায়িত্বে থেকে ক্ষমতার প্রভাব খাটাবেন তিনি এবং অফিস হতে দুদককে সঠিক তথ্য সরবরাহ করা হবে না।
শীর্ষনিউজ