এম আবদুল্লাহ
গত দুদিন ভার্চুয়াল জগতে দেখছি আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ফ্যাসিস্ট শাসনের অন্যতম লুটেরা ওরিয়ন গ্রুপের ওবায়দুল করীমের কাছে বিক্রি হয়ে গেছেন। প্রথমে পাত্তা দিতে চাইনি। এখন দেখছি অনেক কথিত প্রভাবশালী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারও এ নিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন। এ প্রেক্ষিতে কিছু লেখার প্রয়োজন বোধ করলাম।
২০০৪ সালে প্রকাশিত দৈনিক আমার দেশ এর মালিকানা ছিল মোসাদ্দেক আলী ফালু ভাইয়ের নেতৃত্বে আমার দেশ পাবলিকেশন্স লি. এর। সিংহভাগ মালিকানা তাঁর থাকলেও ফালু সাহেবের বড় ভাইসহ আরও কয়েকজন নামমাত্র শেয়ারের মালিক হিসেবে কোম্পানির পরিচালক ছিলেন। প্রকাশক ছিলেন ফালু ভাইয়ের বড় ভাই হাসমত আলী। খুবই ক্ষুদ্র অংশিদার হিসেবে পরিচালক ছিলেন ওরিওন গ্রুপের ওবায়দুল করীমও। এক এগারো সময় ফালু ভাই কারাবন্দী হয়ে যখন চরম বিপদগ্রস্ত তখন পত্রিকা চালাতে অপারগতা জানান পরিচালকরা। আমাদের কাছে খবর পাঠান ক্রেতা খুজতে। তখন সেনাসমর্থিত অনেক ব্যবসায়ী পত্রিকাটি কিনতে আলোচনা করেন। এরমধ্যে অনেকে ছিলেন আওয়ামী ঘরানার। মরহুম আতাউস সামাদ স্যারের নেতৃত্বে দুঃসময়ে পত্রিকার প্রকাশনা চালিয়ে নেওয়ার দায়িত্বে থাকা আমরা কয়েকজন কর্মী (বিশেষত সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাহেদ চৌধুরী ও আমি) কোনমতেই আওয়ামী লীগের কারও হাতে পত্রিকাটি দিতে চাইনি। এক পর্যায়ে আমরাই মাহমুদুর রহমানকে অনুরোধ করে পত্রিকার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে তুলে দেই। কাশিমপুর জেলখানা থেকে ফালু ভাই তাঁর মালিকানার সিংহভাগ শেয়ার হস্তান্তর করেন মাহমুদুর রহমানের কাছে।
কিন্তু ওয়ান-ইলেভেনের শাসনে বিপদে থাকা ওবায়দুল করীম তাঁর অংশের মালিকানা হস্তান্তরে সম্মত থাকলেও আত্মগোপনে থাকার কারণে ওই সময় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি। তার পর আওয়ামী শাসনে এ হস্তান্তর প্রক্রিয়া এগুনো যায়নি পত্রিকাটি সরকারের রোষানলে পড়ে বন্ধ থাকার কারণে। আওয়ামী লীগের পতনের পর পত্রিকা পুনঃ প্রকাশ হলেও জনাব ওবায়দুল করীম ছিলেন দেশের বাইরে আত্মগোপনে। ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনের পর তিনি দেশে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমার দেশ পত্রিকায় তাঁর শেয়ারের ক্ষুদ্র অংশটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সই করে দিয়েছেন এবং প্রক্রিয়াটি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। উনার অংশ হস্তান্তরের আগেই আমার দেশ এ একাধিক রিপোর্ট ছাপা হয়েছে হাসিনা সরকারের সময়ে ওরিয়ন গ্রুপের লুটপাট নিয়ে। বিদ্যুৎ খাতে এই কোম্পানির লুট নিয়ে আমার এক লীড রিপোর্টের পর তিনি অভিযোগ জানাতে সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের কাছে ফোনও করেছিলেন। মাহমুদুর রহমান স্বভাবসুলভ শক্ত জবাবই দিয়েছেন।
এই যখন চিত্র তখন চিলে কান নেওয়ার মতো কোন যাচাই ছাড়াই ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে লেখা হচ্ছে মাহমুদুর রহমান ওরিয়নের কাছে বিক্রি হয়ে গেছেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে ওরিওন গ্রুপ তাদের মালিকানাধীন বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকা ছাড়াও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর একটি টেলিভিশনে বড় বিনিয়োগ করেছে। সে খবর এসব বিশেষ অজ্ঞরা রাখেন বলে মনে হয় না। ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টিতে তারা ব্যস্ত।