
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ‘ঘর জামাই' বলায় ক্ষিপ্ত হয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী মাইমুনাকে হত্যা করেছে আপন ফুফা সাইদুল ইসলাম (৩৯)। হত্যাকাণ্ডের ছয় দিন পর এবং মরদেহ উদ্ধারের তিন দিন পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রহস্য উন্মোচিত হয়। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে অভিযুক্ত সাইদুল।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গত ২৩ আগস্ট (শনিবার) দুপুরে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলার সময় ফুল আনতে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে যায় নালিতাবাড়ী উপজেলার ভালুকাকুড়া গ্রামের মফিজুল ইসলামের মেয়ে মাইমুনা। এরপর সে নিখোঁজ হয়। পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করে পরদিন রোববার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে মঙ্গলবার বিকেলে দুর্গন্ধের সূত্র ধরে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় কচুরিপানার নীচ থেকে মাইমুনার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ফুল আনতে গেলে কথা প্রসঙ্গে ঠাট্টা করে ফুফা সাইদুলকে ‘ঘর জামাই’ বলে ডাকে মাইমুনা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাইদুল প্রথমে তাকে থাপ্পড় দেন। এতে মাইমুনা অচেতন হয়ে পড়লে তিনি গলায় থাকা ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে মরদেহ পাশের ডোবায় কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রেখে ঢাকায় পালিয়ে যান। এরপর বুধবার রাজধানীর খিলগাঁও তিলপাপাড়া এলাকা থেকে সাইদুলকে গ্রেপ্তার করে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ।