
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষার খাতা দেখার দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের। তবে রাজশাহীর নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজে সেই কাজই করেছেন হোস্টেলের একজন নিরাপত্তা প্রহরী। কলেজের ইতিহাস বিভাগে বিভাগের অধ্যাপক ও হোস্টেলের তত্ত্বাবধায়ক ড. মো. শাহাদাত হোসেনের ওপর পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব থাকলেও তিনি সেই খাতা নিজের হাতে না দেখে হোস্টেলের নিরাপত্তা প্রহরী রাসেলকে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি কলেজের এক ছাত্র একটি ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে বিষয়টি আলোচনায় আসে। ছবিতে দেখা গেছে, হোস্টেলের তত্ত্বাবধায়কের অফিস রুমে বসে নিরাপত্তা প্রহরী রাসেল পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করছেন। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক ও ছাত্ররা বলছেন, অনার্স ও মাস্টার্সের পরীক্ষার খাতা দেখার মতো কাজে এ ধরনের অবহেলা ও অনিয়ম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী নিউ ডিগ্রি কলেজের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে এসব খাতার সঠিক মূল্যায়নের ওপর, অথচ সেখানে গার্ড বা কর্মচারী দিয়ে খাতা দেখানো হচ্ছে যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এইভাবে শিক্ষার্থীদের জীবন ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, হোস্টেলের গার্ড রাসেল শুধু নিরাপত্তার কাজই করেন না, বরং অধ্যাপক শাহাদাতের ব্যক্তিগত বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, হোস্টেল ব্যবস্থাপনা এমনকি খাতা দেখা—সব কাজেই নিযুক্ত থাকেন। এসব কাজের বিনিময়ে কোনো নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন না করেও বহাল তবিয়তে আছেন তিনি।
হোস্টেলের আয়ের বিষয়েও রয়েছে প্রশ্ন। তিনতলা হোস্টেলের প্রতিটি ঘরে গড়ে তিনজন করে মোট ৭৫ জন ছাত্র অবস্থান করে। জনপ্রতি মাসিক ভাড়া ১ হাজার টাকা হলে মোট আয় হয় ৭৫ হাজার টাকা। এর বিপরীতে ৫ জন কর্মচারীর বেতন ২৫ হাজার টাকা এবং গড়ে বিদ্যুৎ বিল ১৫ হাজার টাকা—মোট ব্যয় ৪০ হাজার টাকা। বাকি ৩৫ হাজার টাকার কোনো হিসাব মিলছে না।
অভিযোগ রয়েছে, হোস্টেল পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও শাহাদাত হোসেন মাসে ২০-২৫টি সিট খালি দেখিয়ে সেই টাকার অংশ নিজের কাছে রাখছেন। এছাড়া পানির পাম্প কিংবা বিদ্যুৎ সংযোগ ঠিক না করায় প্রায়শই শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ, মোবাইল, চার্জারসহ ইলেকট্রনিক সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে।
এ বিষয়ে রাসেল বলেন, আমি দূুরে আছি, সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই, আমি পরে কথা বলছি বলে ফোনটি কেটে দেন।
অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোসেন সরকার বলেন, গার্ড কিভাবে খাতা দেখবে, খাতা আমি দেখি। ও শুধু বৃত্ত ভরাটের কাজটি করে দেয়। বোর্ডের পরীক্ষার খাতা অন্যকে দিয়ে বৃত্ত ভরাট করাটা কি অনিয়ম নয় ? তিনি বলেন, অন্যায় নয়, এটা তো বেশিরভাগ শিক্ষকই করে থাকেন। তাছাড়া খাতা তো তার কাছে ছেড়ে দেয়া হয় না, আমি পাশে বসে তাকে দিয়ে এগুলো করিয়ে নিই। কোন ছাত্র ষড়যন্ত্র করে এটা করেছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহীর উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুঞ্জুর রহমান খান বলেন, শিক্ষা বোর্ড হোক আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হোক বা যে কোন বোর্ডের খাতা দায়িত্ব প্রাপ্ত শিক্ষক ব্যতীত অন্য কেউ কিছুই করতে পারবে না, এটি অত্যন্ত গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। যা সংরক্ষণের দায়ভার শুধুই সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের।
রাজশাহী গভ: নিউ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কালাচাঁদ শীল বলেন, কাজটি ঠিক হয়নি, অন্যায় হয়েছে, এটা করা উচিত নয়। এরকম ঘটনা জানার পর প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে আপনার করণীয় কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রিন্সিপাল হিসেবে আমার কিছু করণীয় থাকে না, এটা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যদি কোনো ব্যবস্থা নেয় তাহলে নিতে পারে।