Image description
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র

২০২৪ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। পোশাক রপ্তানি সুবিধার কারণে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬১৫ কোটি ডলার।

মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ৮৩৭ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে বাংলাদেশে রপ্তানি করেছে ২২১ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে শিল্পের কাঁচামাল এবং মূলধনী যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে, যা উভয়ই দেশের আমদানির হিসাবে উল্লেখযোগ্য ভাবে স্থান পেয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য নীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের মাধ্যমে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার একাধিক দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন এবং দিনটিকে আমেরিকার মুক্ত দিবস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। নতুন পদ্ধতির অংশ হিসেবে, বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্য প্রতিযোগিতা হ্রাস করবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বর্তমানে বেশির ভাগ বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য থেকে দেখা যায়, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে লোহা ও ইস্পাত, যার মূল্য ৬৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এ ছাড়াও ৩৫ কোটি ১০ লাখ ডলার মূল্যের তৈলবীজ ও শস্য, ২৫ কোটি ২০ লাখ ডলার মূল্যের তুলা এবং ১৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার মূল্যের জৈব রাসায়নিক আমদানি করেছে বাংলাদেশ। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, জাহাজ নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ বাংলাদেশের নির্মাণ ও উৎপাদন শিল্পগুলো যুক্তরাষ্ট্রের লোহা ও ইস্পাত আমদানির ওপর ব্যাপক ভাবে নির্ভরশীল। কৃষি খাতের বিভিন্ন শস্যের সঙ্গে সয়াবিন বীজ, সয়াবিন তেল, প্রাণী খাদ্য তৈরি কাঁচামাল আমদানি করে বাংলাদেশ। দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ তৈরি পোশাক খাত। বাংলাদেশের টেক্সটাইল এবং পোশাক শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য উচ্চমানের পোশাক উৎপাদনের জন্য মার্কিন তুলা আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির তালিকায় আরও রয়েছে উড়োজাহাজের ইঞ্জিন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, হুইস্কি, গাড়ি, গম, উড পাল্প, পুরোনো জাহাজ, সয়াকেক, কাঠবাদাম ইত্যাদি। অন্যান্য আমদানির মধ্যে রয়েছে ১৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার মূল্যের খনিজ জ্বালানি ও তেল এবং ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার মূল্যের খাদ্য শিল্পের কাঁচামাল।

২০২৪ সালে বাংলাদেশ পারমাণবিক চুল্লি এবং ব্রয়লার আমদানি করেছে ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যেখানে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এবং শব্দ সরঞ্জাম আমদানি করেছে ৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে বিমান এবং মহাকাশযানের যন্ত্রাংশও ছিল, যার মূল্য ছিল ৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। মার্কিন তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশ ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার মূল্যের অপটিক্যাল, চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি, ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার মূল্যের কাগজ এবং পেপারবোর্ড এবং সমপরিমাণ শস্য আমদানি করেছে। ২০২৪ সালে, বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৮৩৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে পোশাক থেকে, যার পরিমাণ ছিল ৭০৬ কোটি ডলার। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রপ্তানির মধ্যে রয়েছে ৩২ কোটি ৪০ লাখ ডলার মূল্যের টুপি এবং ২৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার মূল্যের পাদুকা। বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প রপ্তানি করেছে ১৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যেখানে পালক রপ্তানি হয়েছে ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। চামড়াজাত পণ্য ছিল ১০ কোটি ডলার। অপটিক্যাল, চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি রপ্তানি হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং প্লাস্টিকের রপ্তানি হয়েছে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার। মার্কিন তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের ওষুধ পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ১০ লাখ ডলার।