Image description
♦ সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ ♦ ঝুলছে ৩৬৫ আবেদন ♦ জুনের মধ্যে সীমানা নির্ধারণের পরিকল্পনা ইসির

জাতীয় সংসদের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫৫টি আসনের সীমানা জটিলতা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে ৩৬৫টি আবেদন ঝুলে আছে। এর মধ্যে কুমিল্লা, গাইবান্ধা, পিরোজপুর, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার কিছু আসন নিয়ে বেশি আবেদন এসেছে। বিগত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ১০ আসনে পরিবর্তন আনা হলেও অধিকাংশ আসনে এখনো জটিলতা রয়েই গেছে। ইসির হিসাবে আসন সংশোধনের জন্য এখন পর্যন্ত ৪১টি সংসদীয় আসনে ২৪৮টি সীমানা সংক্রান্ত আবেদন এসেছে।

এর আগে ১৯৮৪ ও ১৯৯১ সালের পর ২০০৮ সালে ড. এ টি এম শামসুল হুদা কমিশন নবম সংসদ নির্বাচনের জন্য শতাধিক আসনে সীমানা পরিবর্তন আনে। এরপর কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ কমিশন দশম সংসদ নির্বাচনে ৫০টি আসনে ছোটখাটো পরিবর্তন আনে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল ২৫টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন এনে গেজেট প্রকাশ করে।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী জুনের মধ্যে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ৫৫টি আসনের সীমানা জটিলতা নিয়ে বর্তমানের নির্বাচন কমিশনের টেবিলে ৩৬৫টি আবেদন ঝুলে আছে। সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের সংক্রান্ত আইন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে কিছু সংশোধনীর জন্য পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই আইনের সংশোধন কপি হাতে পেলেই নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করতে পারবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন, আসনের সীমানা নিয়ে অনেকের আপত্তি আছে, চাওয়া-পাওয়া আছে। ৫৫টি আসন সংশ্লিষ্ট ৩৬৫টি আবেদন আমাদের কাছে পেন্ডিং রয়েছে। বিদ্যমান আইনে আবেদনকারীরা যে সমাধান চাইছেন তা করা যাচ্ছে না। তাই আইনটি সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদে আমাদের যে টার্গেট, তা ফুলফিল হয়ে গিয়েছে এবং জুনের মধ্যে আমরা এটা চূড়ান্ত করতে পারব। সীমানা পুনর্নির্ধারণ আইনে কিছু প্রিন্ট মিস্টেকসহ আমরা কিছু প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য। সেটার চূড়ান্ত কপি আমরা হাতে পাইনি। হয়তো এটি প্রক্রিয়াধীন আছে। সংশোধনীটা হলে ডিলিমিটেশন করতে পারব। অন্যথায় যেভাবে আছে সেভাবে নির্বাচনটা করতে হবে। এটা আমাদের জুনের ভিতরে করার পরিকল্পনা।

এই নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, আমরা পোলিং পারসনদের যে প্যানেল, সেই প্যানেলটাও আমরা জুলাই-আগস্টের দিকে প্রস্তুত করে ফেলব। রাজনীতিবিদসহ অন্যান্য স্টেকহোল্ডার যারা আছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, তাদের সঙ্গে আমাদের মতবিনিময় হবে।

কোন সময়কে ধরে নিয়ে কাজগুলো শেষ করতে চাচ্ছেন, জানতে চাইলে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমরা জুলাই-আগস্টের মধ্যেই প্রস্তুত থাকার চিন্তা করছি। কারণ আমাদের যে সংশোধনীগুলো আইনে আসছে সেগুলোর ম্যানুয়াল পাবলিশ করতে হবে। এই জিনিসগুলো আবার ডিস্ট্রিবিউট করতে হবে। তারপরে মাঠপর্যায় থেকে সবপর্যায়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এই যে বিশাল কর্মযজ্ঞ; অক্টোবরে যদি আমরা তফসিল ঘোষণার চিন্তা করি তাহলে জুলাই আগস্টের ভিতরে আমাদের সমস্ত প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা এগোচ্ছি। প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী ডিসেম্বরকে টার্গেট করে সব ধরনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনেক জেলার আসনে জনসংখ্যার ভারসাম্য নেই। কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ জেলায় রয়েছে ১১টি করে সংসদীয় আসন। কুমিল্লার জনসংখ্যা ৫৩ লাখের বেশি। ময়মনসিংহের জনসংখ্যা ৫১ লাখের বেশি। ৩৬ লাখ জনসংখ্যার টাঙ্গাইলে আছে ৮টি আসন। অন্যদিকে গাজীপুরে ৩৪ লাখের বেশি এবং নারায়ণগঞ্জে ২৯ লাখের বেশি জনসংখ্যা থাকলেও উভয় জেলায় সংসদীয় আসন পাঁচটি করে। একইভাবে চুয়াডাঙ্গায় ১১ লাখের বেশি জনসংখ্যায় আসন রয়েছে দুটি।

দেখা গেছে, পঞ্চগড়-১ আসনে ভোটার ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৩ জন। গাজীপুর-১ আসনে ভোটার ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৫২ জন। গাজীপুর-২ আসনে ভোটার ৭ লাখ ৭৯ হাজার ৭৩৬ জন। কুমিল্লা-২ আসনে ভোটার ২ লাখ ৮২ হাজার ৬২২ জন। কুমিল্লা-১০ আসনে ভোটার ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২২ জন। কুমিল্লা-১১ আসনে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৮০৫ জন। এদিকে চারটি উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-১ আসন। এ আসনে ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলা। এ আসনে ভোটার রয়েছেন ৪ লাখ ৬২ হাজার ৬৯৫ জন। সুনামগঞ্জ- আসনে ভোটার হচ্ছে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৮৯৩ জন। উপজেলা দুটি। ঠাকুরগাঁও-১ আসন গঠিত হয়েছে শুধু সদর উপজেলা নিয়ে। এ আসনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৮০ হাজার ৬০৪ জন। ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ভোটার ৩ লাখ ১৭ হাজার ৯৬৫। ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে ভোটার হচ্ছে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫৪ জন। কিন্তু এ জেলার রাণীশংকৈল উপজেলাকে ভেঙে ঠাকুরগাঁও-২ ও ৩ আসনে দেওয়া হয়েছে। তথা রাণীশংকৈল উপজেলার ১ লাখ ৪০ হাজার ৫১৬ জন ভোটার ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে। আর ঠাকুরগাঁও-২ আসনে রয়েছেন ৪০ হাজার ৪৫৯ জন ভোটার।