
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় দেশে এখন ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে বিদেশি বিনিয়োগ। সেই সঙ্গে গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতন হলেও এখনও কাটেনি অস্থিরতা ও নানামুখী ষড়যন্ত্র। এরমধ্যে নতুন করে শুল্ক আরোপ করে যখন বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তৈরি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, ঠিক সেই সময়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ৭-১০ এপ্রিল একটি বড় আকারের বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রভাবকে কাজে লাগানোর বড় একটি সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ। ড. মুহাম্মদ ইউনূসে প্রভাবিত হয়ে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব-আমিরাত, সউদী আরবসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য মুখিয়ে আছে। সম্মেলনের লক্ষ্য পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে- নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি, টেক্সটাইল ও পোশাক, স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ শিল্প এবং কৃষি প্রক্রিয়াকরণ-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। আয়োজকরা জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের উপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৫’-এ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে একটি হ্রাসকৃত শুল্ক কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে। নতুন শুল্ক আরোপের কোনো প্রভাব পড়বে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, এর তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না। যারা (বিনিয়োগকারী) যোগ দিতে যাচ্ছেন, তারা এখনও আসবেন। তবে, তারা আমাদের প্রতিক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা পর্যবেক্ষণ করবেন বাংলাদেশ সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং নীতিগত পর্যায়ে কীভাবে বিষয়টি সমাধান করছে। শীর্ষ সম্মেলনে অবশ্যই এই বিষয়ে আলোচনা হবে। চৌধুরী আশিক বলেন, আমরা আশা করছি ৯ এপ্রিলের মূল অনুষ্ঠানের আগেই শুল্ক ইস্যু মোকাবিলায় একটি নির্দেশিকা তৈরি করতে পারব। তিনি জানান, সরকার আমদানিকৃত মার্কিন পণ্যের উপর শুল্ক পর্যালোচনা করছে এবং এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করবে। ধাপে ধাপে বেসরকারি খাত ও সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করছি। একটি টেকসই সমাধান খুঁজে পেতে আমরা মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করব বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন দেশে বিনিয়োগের কোনো পরিবেশ ছিলো না। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের ধারাবাহিকতার কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। তা ছাড়া বিনিয়োগের বাধার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাংকের উচ্চ সুদহার। এমন পরিস্থিতিতে বাড়ছে বেকারত্বের হারও। নতুন বিনিয়োগে আসছেন না দেশীয় বিনিয়োগকারীরা। তাঁদের মতো নতুন বিনিয়োগকারীরাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। এখন দরকার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ইমেজকে ব্যবহার করে সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।
সম্প্রতি জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে আশার বাণী শুনিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে নতুন নতুন বিনিয়োগ দেখা যাবে বলে উল্লেখ করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে যাচ্ছে। তারা বাংলাদেশের বর্তমান ব্যবস্থায় বিনিয়োগের বিষয়ে খুবই আগ্রহী। আশা করছি, দ্রুততম সময়ে দেশে নতুন নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আপনারা দেখতে পাবেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে লাইসেন্সিং রিকোয়ারমেন্টস, প্রত্যাবাসন আইনসহ বিনিয়োগকারীদের যে সাধারণ সমস্যাগুলো রয়েছে সেগুলো সমাধানে কাজ শুরু করেছে। গত সপ্তাহে চীন সফরে বাংলাদেশে ব্যবসার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এ দেশে বিনিয়োগের জন্য চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। চীনা বিয়োগকারীদের উদ্দেশে মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আপনারা (চীনা বিনিয়োগকারীরা) বাংলাদেশে ব্যবসার সম্ভাবনার সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। সরাসরি তিনি তিস্তাসহ অন্যান্য প্রকল্পে বিনিয়োগেরও আহ্বান জানিয়েছেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কথার সঙ্গে বাস্তবের মিলও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য চলতি সপ্তাহে একটি সম্মেলনের আয়োজন করেছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, শ্রম অসন্তোষ এবং অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে, অর্থনৈতিক সংস্কার ও বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে এই সম্মেলনের আয়োজন। যা আগামীতে দেশের দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ সংযোগ তৈরি করবে। কর্মসংস্থানের পথ দেখাবে। আগামী ৭ থেকে ১০ এপ্রিল ঢাকা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এই সম্মেলনের লক্ষ্য বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরা। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ৫০টি দেশের ২ হাজার ৩০০-এর বেশি বিনিয়োগকারী নিবন্ধন করেছেন। যার মধ্যে ৫৫০ জনের বেশি বিদেশি বিনিয়োগকারী রয়েছেন। শীর্ষ নিবন্ধিত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, সিঙ্গাপুর এবং জাপান। আগামী ৯ এপ্রিল বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে নিয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
দেশের গভীর সমুদ্রবন্দর মাতারবাড়ী পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে সউদী মালিকানাধীন বন্দর কোম্পানি রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল। কোম্পানির নির্বাহী চেয়ারম্যান আমের এ আলিরেজা জানিয়েছেন, তাদের সহযোগিতায় মাতারবাড়ীকে অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ বন্দর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। সউদী এই প্রতিষ্ঠানটি পতেঙ্গা টার্মিনালে এর আগে বিনিয়োগ করেছে। এছাড়া মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দরে বিনিয়োগের জন্য জাপান আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরের তীরে আরও বন্দর নির্মাণ করবে, যাতে চট্টগ্রাম অঞ্চলকে এ অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য রপ্তানি ও শিপিং হাবে পরিণত করা যায়। এ বিষয়টিতেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিভিন্ন দেশ।
এদিকে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবাদাতা স্টারলিংকের মূল প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স ও কাতারের রাজপরিবারের ‘গ্লোবাল এনগেজমেন্ট অ্যাডভাইজার’ রিচার্ড এইচ গ্রিফিত সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন। সফরকালে তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়ে বলেছেন, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস একটি বড় মুক্তবাণিজ্য এলাকা গড়ে তোলার কথা বলেছেন। এ ধরনের উদ্যোগ ব্যবসার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
রিচার্ড গ্রিফিত বলেছেন, অবশ্যই বাংলাদেশে ব্যবসার সম্ভাবনা আছে। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যেটি এখনো আমেরিকান ও ইউরোপীয়দের (বিনিয়োগকারী) রাডারে আসেনি। বাংলাদেশে এখন যে সরকারপ্রধান রয়েছেন, তিনি বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত। বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, আমি মনে করি, যা আগে ছিল না। এখন কিছু আমেরিকান কোম্পানি বাংলাদেশে ব্যবসার আগ্রহ দেখাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কীভাবে সম্প্রসারিত হয়, তা দেখার জন্য আমি আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আয়োজক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান, অংশীদারিত্ব গঠন এবং ব্যবসার ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী শীর্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দেবে এ সম্মেলন। বিডার ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের প্রধান নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, বাংলাদেশে অপার সম্ভাবনা রয়েছে, এবং আমি বিশ্বাস করি আমরা তা উন্মোচনের পথেই আছি। একবার বিনিয়োগকারীরা এলে, আমরা চাই তারা খুশি হোক এবং বাংলাদেশের জন্য প্রতিনিধি হয়ে উঠুক। নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, চীনসহ উত্তর এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের দেশগুলোর ব্যবসায়ীরা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং এখানে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বের দুই অন্যতম ধনী ব্যক্তি এবং বিনিয়োগকারী- স্পেসএক্স এবং স্টারলিঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক এবং অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস-সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন। ইলন মাস্ক না আসলেও ইতোমধ্যে তার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশে। এ বিষয়ে নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, স্টারলিঙ্কের সাথে যতটুকু কাজ করা সম্ভব, তার সবটাই এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সার্ভিস চালু করা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে- চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগ ৭১ শতাংশ কমে হয়েছে ১০৪ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন ডলার। গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিনিয়োগ কমার পেছনে দীর্ঘদিন থেকে বিরাজমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে দায়ী করেছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের মোট বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে ১৭ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়া শীর্ষ তিন বিনিয়োগকারী দেশ।
জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো) ২০২৪-এর সাম্প্রতিক জরিপে নীতিগত অসঙ্গতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে উল্লেখযোগ্য বাধা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে জাপানি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ জটিল অনুমোদন প্রক্রিয়া, করের অসঙ্গতি ও আকস্মিক নীতি পরিবর্তনকে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও বাংলাদেশ অবকাঠামো ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করেছে, তারপরও লজিস্টিক অদক্ষতা ও ধীর প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যবসা পরিচালনায় প্রভাব ফেলছে। আর তাই বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট নতুন বিনিয়োগের সুযোগ এবং অর্থনৈতিক সংস্কার ও নীতিগত প্রণোদনা তুলে ধরার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ ফেরানোর পথ উন্মোচন করবে।
সম্প্রতি ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বিনিয়োগবান্ধব নীতি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকারের অঙ্গীকারের ওপর জোর দেন।
সংকটের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্প সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ব্যবসা সহজ করতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগের বর্তমান মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিশীল বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে আছে। এর অভ্যন্তরীণ বাজার ক্রমশই বড় হচ্ছে। শ্রমিকদের স্বল্প মজুরি ও কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের গুরুত্ব অনেক। তিনি স্বীকার করেন যে, দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ধরে রাখতে ধারাবাহিক নীতি, অবকাঠামোগত উন্নতি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে এক সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। তার মতে, ইনভেস্টমেন্ট সামিট বিনিয়োগকারীদের নতুন করে আগ্রহের ক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। বিদেশি ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশের সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরা হবে। বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ দূর করতে নীতিনির্ধারকরা একটি প্ল্যাটফর্ম পাবে।
সামিটে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কর্পোরেট ব্যক্তিত্বরা অংশ নেবেন। যাদের মধ্যে রয়েছেন জারা গ্রুপের সিইও অস্কার গার্সিয়া মেসেইরাস, ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ বিন সুলাইয়েম, ব্রিটিশ ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটন, স্যামসাং সি অ্যান্ড টি-র ভাইস প্রেসিডেন্ট কিয়ংসু লি, গিওর্দানো’র সিইও জুনসিওক হান, এক্সেলারেট এনার্জির প্রেসিডেন্ট স্টিভেন কোবোস, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের উবারের পাবলিক পলিসি প্রধান মাইক অর্গিল এবং মেটার পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর সারিম আজিজ। এছাড়া বি ক্যাপিটাল, গবি, কনজাংশন, মারুবেনি এবং জি এফ আরের মতো ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলো স্টার্টআপ বিনিয়োগ ও ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারে কাজ করবে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের (পিইবি) চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এম মাসরুর রিয়াজ ইনকিলাবকে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে দেশে বিদেশি বিনিয়োগের খরা যাচ্ছে। আশাকরছি বিনিয়োগ সম্মেলনের মাধ্যমে এই খরা অনেকটা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি বলেন, বিডা, বেজাসহ বিনিয়োগ আকর্ষণে যারা কাজ করছেন তাদের জন্যও দীর্ঘদিন পর ড. মুহাম্মদ ইঊনূসের ইমেজকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহী করার সুযোগ এসেছে। আর তাই সঠিক নীতি, অবকাঠামোগত উন্নতি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে এক সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের জন্য এগিয়ে আসতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।