Image description
 

ইউনাইডেট গ্রুপের হেলমেট বাহিনীর হামলায় আহত মোহাম্মদ জনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তার পরিবার এখন অভাব অনটনে দিন কাটাচ্ছে। সন্ত্রাসীরা জনির মাথায় আঘাত করায় তাতে অর্ধশতাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। আর পা ভেঙে দেওয়ায় হাঁটা, চলাফেরা একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। ছোটবেলায় বাবা হারানো জনি এবার ঈদে মাকে নিয়ে আর্থিক অনটনের মধ্যদিয়ে দুর্বিসহ দিন পার করেছেন। তার চিকিৎসায় যে পরিমাণ ব্যয় হচ্ছে তা বহন করা সম্ভব হচ্ছে না পরিবারটির।

 

ইউনাইডেটের হেলমেট বাহিনীর হামলা: জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে জনি, পরিবার নিয়ে বিপাকে
ইউনাইডেটের হেলমেট বাহিনীর হামলা: জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে জনি, পরিবার নিয়ে বিপাকে

 

গত ২২ মার্চ রাতে রাজধানীর গুলশানের অভিজাত ‘সেন্টার পয়েন্ট’ ভবনের নিচতলায় হামলার শিকার হন জনি। তিনি বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান শিল্ড সিকিউরিটি সার্ভিসের কর্মী ছিলেন। ঘটনার দিন ওই ভবনের ১৮তলায় অবস্থিত এসএস বিল্ডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে অফিস পাহারায় দায়িত্বে ছিলেন জনিসহ আরও কয়েকজন নিরাপত্তাপ্রহরী। বেশ কিছুদিন ধরে ইউনাইটেড টুইন টাওয়ার ডেভেলপারস্ লিমিটেডের সঙ্গে এসএস বিল্ডার্সের দ্বন্দ্ব চলছিল। এরই জেরে ঘটনার দিন ফ্লোর পাহারায় থাকা নিরাপত্তা কর্মী রাজীব, মোন্তাসির ও জাহাঙ্গীরকে আটকে রাখে ইউনাইটেডের লোকজন। পরে তাদের দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও নিরাপত্তাকর্মী রাজীবকে ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় আটকে নির্যাতন করা হয়।

 

খবর পেয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা একসঙ্গে রাজীবের খোঁজ করতে যান। সেন্টার পয়েন্টের নিচে আওয়ামী লীগ আমলে সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী গ্রুপ ইউনাইটেড গ্রুপের হেলমেট বাহিনীর প্রধান মো. আবিদ ও প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী (সিইও) শেখ ফারুকের নেতৃত্বে ১৫-১৬ জন হেলমেট পরিহিত সশস্ত্র লোক ১৮ তলায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিকিউরিটি অপারেশনের শাকিব, জনি, উসমানসহ অন্য নিরাপত্তারক্ষীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে। তাদের রামদার কোপে জনি গুরুতর আহত হন। এছাড়া উসমান, শাকিবসহ আরও কয়েকজন আহত হন।

আহতদের সূত্রে জানা যায়, ১০-১৫ জনের সন্ত্রাসী গ্রুপ হামলার সময় লোহার রড, রামদা ব্যবহার করে। তাদের পুলিশ ও প্রেস লেখা বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরিহিত দেখা গেছে এবং ঢাল ব্যবহার করেছেন।

দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত মোহাম্মদ জনিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেলে এবং পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে এখন তিনি বাড়িতে ফিরেছেন।

আহত জনির মামাতো ভাই ওসমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘জনিদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। বর্তমানে রাজধানীর নতুনবাজার এলাকার মা ও শিশু হাসপাতালের গলির ছোট একটি টিনসেড ঘরে ভাড়া থাকেন তিনি।সেখানেই থাকেন তার মা ও ছোট ভাই। ছোট বেলায় জনির বাবা মারা যান। দুই ভাইয়ের মধ্যে জনি সবার বড়। ফুটপাতে দোকান বসিয়ে ব্যবসা করত। সেখানে থেকে যা উপার্জন হতো তাই দিয়ে সংসার চলত। তবে ফুটপাত থেকে তার দোকান উচ্ছেদ করা হলে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি শুরু করে। তার চাকরির টাকাতেই পরিবারটি চলত। এখন অভাব অনটনে দিন কাটছে তাদের।’

জনির শরীরের অবস্থা তেমন ভালো না জানিয়ে ওসমান বলেন, ‘ঈদের একদিন আগে সে হাসপাতাল থেকে বাসায় এসেছে। এখন দুইদিন পরপর মাথায় ক্ষতস্থানের ড্রেসিং করতে হচ্ছে।’

জানা গেছে, সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ইউনাইটেড সিকিউরিটি সার্ভিসের ইনচার্জ মো. আবিদ ছাড়াও জড়িত ছিলেন ইউনাইটেড গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শেখ মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, নুর হোসেন, সারজিত হোসেন, মো. ফারুক, ইউনাইটেড সিকিউরিটি সার্ভিসের সুপারভাইজার রতন বিশ্বাস, পেট্রোল অফিসার শুভ, সিকিউরিটি সুপার ভাইজার আচাবুর রহমান, সিকিউরিটি আফজাল নাসের ভূঁইয়া, শহিদুল আলমসহ অজ্ঞাত আরও ১৫/১৬ জন।

এদিকে এ ঘটনায় গুলশান থানা করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গুলশান সেন্টার পয়েন্টের লিফটের ১৮ তলায় অবস্থিত ফ্লোরের মালিক এসএস বিল্ডার্স। মালিকানা নিয়ে ইউনাইটেড টুইন টাওয়ার ডেভেলপারস্ লিমিটেডের সঙ্গে এসএস বিল্ডার্সের দ্বন্দ্ব চলছে। এরই জেরে শনিবার দুপুরে ১৮ তলায় পাহারায় থাকা নিরাপত্তা কর্মী রাজীব, মোন্তাসির ও জাহাঙ্গীরকে আটকে রাখে ইউনাইটেডের লোকজন। পরে তাদের দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও নিরাপত্তাকর্মী রাজীবকে ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় আটকে নির্যাতন করা হয়।

খবর পেয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা একসঙ্গে রাজীবের খোঁজ করতে যান। সেন্টার পয়েন্টের নিচে ইউনাইটেডের হেলমেট বাহিনীর প্রধান শেখ ফারুক ও আবিদের নেতৃত্বে ১৫-১৬ জন হেলমেট পরিহিত সশস্ত্র লোক ১৮ তলায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিকিউরিটি অপারেশনের শাকিব, জনি, উসমানসহ অন্য নিরাপত্তারক্ষীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে। তাদের রামদার কোপে জনি গুরুতর আহত হন। এছাড়া উসমান, শাকিবসহ আরও কয়েকজন আহত হন।

 

ইউনাইডেটের হেলমেট বাহিনীর হামলা: জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে জনি, পরিবার নিয়ে বিপাকে
ইউনাইডেটের হেলমেট বাহিনীর হামলা: জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে জনি, পরিবার নিয়ে বিপাকে

 

এসএস বিল্ডার্সের একজন ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ ক্রয় চুক্তি অনুযায়ী ইউনাইটেড গ্রুপ ওই ভবনের একটি ফ্লোর ২০১১ সালে আমাদের বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার প্রায় দশ বছর পর ২০২১ সালে আমাদের বুঝিয়ে দেয় (লিফটের ১৮ তলা)। এরপর আমরা তৃতীয় পক্ষকে অফিস হিসেবে ভাড়া দিয়েছিলাম। আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তনের পর ওই ভাড়াটিয়া চলে গেলে নতুন করে একজনকে ভাড়া দেওয়া হয়। তারা ডেকোরেশেনের কাজ শুরু করলে হঠাৎ ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৮ তলার বিদ্যুৎ, পানি ও লিফট বন্ধ করে দেয় ইউনাইটেড।

বিষয়টি নিয়ে ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান মঈনউদ্দিন হাসান রশিদের কাছে কারণ জানতে চাইলে তিনি এসএস বিল্ডার্সের কর্মকর্তাকে বলেন, ‘আমাদের নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। এ কারণে বিদ্যুৎ, পানি ও লিফট সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। এর সঙ্গে আমাদের (এসএস বিল্ডার্স) সংশ্লিষ্টতা নেই জানালে মঈনউদ্দিন হাসান আমাকে আশ্বস্ত করেন তিনি বিষয়টি দেখবেন।’

কিন্তু সুরাহা না হওয়ায় ২৮ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হয়। পরে সেখানে দখল শর্তে স্থিতাবস্থা (১৪৫ ধারা) জারি করেন আদালত। এরপরেই ওই ফ্লোরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা কর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।

(ঢাকাটাইমস