Image description

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস বা বিসিএসের সিলেবাস বদলানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৪৮তম বিসিএস থেকে নতুন সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা হতে পারে বলে জানিয়েছে পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা পিএসসি।

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনও বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস সংশোধন ও ছয়টি আবশ্যিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে। জনপ্রশাসনের সুপারিশ এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিলেবাসকে সময়োপযোগী করা হতে পারে বলে জানিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি।

পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বিসিএসের সিলেবাস বদলানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সিলেবাসকে সময়োপযোগী করা হবে। এজন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে অনেকেই রয়েছেন। তাদের সুপারিশের আলোকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, বিসিএসের সিলেবাস পরিবর্তনের জন্য কমিশনের নবম সভায় পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে পিএসসির একজন সদস্যকে। ইতোমধ্যে এই কমিটি একটি বৈঠক করলেও পিএসসিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ‘সিলেবাস রিভিউ কমিটি’ পুনর্গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৪৭তম বিসিএস পর্যন্ত বর্তমান সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা হবে। নতুন সিলেবাস কার্যকর হবে ৪৮তম বিসিএস থেকে।

পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম বলেন, ‘৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে, আবেদনগ্রহণও শেষ হয়েছে। এ কারণে এ বিসিএসের সিলেবাস পরিবর্তন সম্ভব হবে না। আমাদের চেষ্টা থাকবে ৪৮তম বিসিএস থেকে পরিমার্জিত সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়ার।’

জানা গেছে, বর্তমানে যে সিলেবাস অনুযায়ী বিসিএস পরীক্ষা হচ্ছে সেটি ৩৫তম বিসিএস থেকে কার্যকর হয়েছে। এই বিসিএস থেকে মোট ১০টি বিষয়ে ২০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। বিষয়গুলো হলো বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য, বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, ভূগোল-পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সাধারণ বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি, গাণিতিক যুক্তি, মানসিক দক্ষতা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন। 

এর আগে চারটি বিষয়ে (বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান) ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেওয়া হতো। প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা সাধারণ ক্যাডারের জন্য ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। বিষয়গুলো হলো বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা এবং সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। উভয় ক্যাডার হলে ২০০ নম্বরের পেশাগত বিষয় এর সঙ্গে যুক্ত হয়। এ ছাড়া সবশেষ ধাপে অর্থাৎ ভাইভা দিতে হয় ১০০ নম্বরে।