Image description

বাংলাদেশের মত এতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কোথাও নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা আশপাশে দেখেন কোথায় কত কী ঘটে। আমাদের এখানে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সব ভাই-বোনেরা এক সঙ্গে আছে। সবাই এক সঙ্গে কাজ করছে।’

আজ শনিবার নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে মহাষ্টমী স্নানোৎসব পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। 

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘বিদেশি কিছু গণমাধ্যম অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশকে নিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করছে। তাদের অপপ্রচার রোধ করতে হলে দেশের গণমাধ্যম গুলোতে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে হবে। তাহলে ওইসব বিদেশী গণমাধ্যমের মিথ্যা সংবাদের ওপর চুনকালি পড়বে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘লাঙ্গলবন্দের পূণ্যস্নান উৎসব এলাকাকে ধর্মীয় পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা হয়েছে। সেটি বাস্তবায়নে খুব শিগগিরই কাজ শুরু করা হবে।’

পাশাপাশি ব্রহ্মপুত্র নদের যাতে কোনোভাবেই দূষণ বা নষ্ট না হয় সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়াসহ ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

‘হে মহাভাগ ব্রহ্মপুত্র, হে লৌহিত্য আমার পাপ হরণ কর’ - এই মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে গতকাল শুক্রবার রাত ২টা ৮ মিনিট থেকে শুরু হয়ে আজ শনিবার রাত ১২টা ৫১ মিনিট পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদে চলবে পবিত্র স্নানানুষ্ঠান। পুণ্যার্থীরা ফুল, বেলপাতা, ধান, দূর্বা, হরিতকি, ডাব, আম পাতা ইত্যাদি নদের জলে ভাসিয়ে পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ করেন।

লাঙ্গলবন্দ স্নানোৎসব উদযাপন কমিটির ব্যবস্থাপনায় ২০টি স্নানঘাট, নারীদের জন্য কাপড় পরিবর্তন কক্ষ ও অস্থায়ী টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়। এবারও কয়েক লাখ পুণ্যার্থী এই স্নানে অংশ নেন।

তীর্থস্থানজুড়ে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার ও র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়। স্থাপন করা হয় সিসি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার। যানজট নিরসনে সড়কে ট্রাফিক পুলিশ ও নদীতে নৌ-পুলিশের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

পুরোহিতরা জানান, পরশুরাম পিতার আদেশে মাতৃহত্যার পাপ থেকে মুক্তি পেতে ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করেন। এখানে স্নান করেই তার হাতের কুঠার খসে পড়ে। পরবর্তীতে তিনি লাঙ্গল ধারণ করে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করায় এই স্থানের নাম হয় লাঙ্গলবন্দ। 

পুণ্যার্থীরা জানান, জগতের যাবতীয় সংকীর্ণতা ও পঙ্কিলতার আবরণ থেকে মুক্ত হয়ে জীবন, দেশ ও জাতির শান্তি-মঙ্গল কামনা করেই আমরা এখানে স্নান করতে আসি।