Image description
 

কূটনৈতিক তৎপরতার নেপথ্যে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিয়ে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সাম্প্রতিক মন্তব্য, যা ভারতের কাছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই করিডরটি ‘চিকেন নেক’ নামেও পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গের এই সংকীর্ণ ভূখণ্ডটি উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোকে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করে এবং এর উত্তরে নেপাল, পূর্বে বাংলাদেশ ও ভুটান এবং উত্তরে চিন সীমান্ত। সম্প্রতি ড. ইউনূস বাংলাদেশকে ভারতের এই অঞ্চলের সাতটি রাজ্যের সমুদ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ‘একমাত্র অভিভাবক’ বলে মন্তব্য করেন। আর এর পরপরই চিকেন নেক অঞ্চলে ব্যাপক ভারী অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২ দিনের সফরে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডে গেছেন। এই পরিস্থিতিতে, নয়া দিল্লি এই অঞ্চলের কৌশলগত উন্নয়নের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।

Ezoicধারণা করা হচ্ছে, আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেলে ব্যাংককে মোদির সঙ্গে ড. ইউনূসের বৈঠক হতে পারে। যদি এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, তবে গত বছর আগস্টে ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম মোদির সঙ্গে তাঁর সরাসরি সাক্ষাৎ হবে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যূহ হয়েছে উল্লেখ করেছে এবং অত্যাধুনিক সামরিক প্রস্তুতি বজায় রেখে যেকোনো সম্ভাব্য হুমকির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে। এই অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ত্রিশক্তি কর্পসের সদর দপ্তর করিডরের কাছে শুকনায় অবস্থিত। এই কর্পস অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, যেমন রাফালে যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত ‘আকাশ’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সজ্জিত।

 

সম্প্রতি ভারতীয় সেনাপ্রধানের দেওয়া এক বিবৃতি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের অবস্থান আরও সুস্পষ্ট করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘চিকেনস নেক’ কোনো দুর্বল জায়গা নয়, বরং এটি ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক অঞ্চল। যেখান থেকে পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সৈন্যদের যেকোনো প্রকার হুমকির মুখে দ্রুত মোতায়েন করা সম্ভব।

ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী এই অঞ্চলে নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য বিস্তৃত পদক্ষেপ নিয়েছে—এর মধ্যে বিমানবাহিনী হাসিমারা বিমানঘাঁটিতে মিগ বিমানের পাশাপাশি রাফাল যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রন মোতায়েন করেছে। সম্ভাব্য হুমকি প্রতিরোধে করিডরে ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি রেজিমেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ছাড়া, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। আকাশপথে যেকোনো প্রকার অনুপ্রবেশ রুখতে ভারত এই অঞ্চলে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। এর বাইরে অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য এমআরএসএএম আকাশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয় করা হয়েছে।

ভারত আঞ্চলিক স্তরে ক্রমবর্ধমান হুমকির বিষয়ে সতর্ক। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) মাধ্যমে বাংলাদেশে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঢাকার বেইজিংয়ের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা ভারতের জন্য কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, বিশেষত শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে।