Image description

রাজধানীর ফার্মগেটে তেজগাঁও কলেজের প্রভাষক লতা সমাদ্দারকে হয়রানির অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিপ পরা ছবি প্রকাশ করে যেসব তারকা প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছেন চাকরিচ্যুত সেই পুলিশ কনস্টেবল নাজমুল তারেক।

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেছেন, ‘আমি অন্যায়ের সঙ্গে আপস করি না।’

নাজমুল তারেক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রটেকশন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় ‘টিপকাণ্ডে’ জড়িয়ে বেশ আলোচনায় আসেন তিনি। ওই ঘটনা সেসময় টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়।

 

ওই বছরের ২ এপ্রিল পুলিশ সদস্যের উল্টোপথে বাইক নিয়ে যাওয়া থেকে ঘটনার সূত্রপাত। তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক লতা সমাদ্দারের পায়ে বাইক লাগলে নাজমুল তারেকের সঙ্গে তর্ক হয়।

লতা সমাদ্দার অভিযোগ করেছিলেন, তিনি কলেজের পাশে হয়রানির শিকার হন। পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি ‘টিপ পরছোস কেন’ বলে তাকে কটূক্তি করেন।

সে সময় লতা সমাদ্দরের পক্ষ নিয়ে টিপ পরা ছবির সঙ্গে নানা ক্যাপশন জুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদে ফেটে পড়েন শোবিজ অঙ্গনের তারকাদের একটা অংশ।

 

টিপ পরে ফেসবুকে প্রতিবাদ জানানো তারকাদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন চাকরিচ্যুত সেই কনস্টেবল
টিপ পরে ফেসবুকে প্রতিবাদ জানানো তারকাদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন চাকরিচ্যুত সেই কনস্টেবল

 

এছাড়া ওই সময় পুলিশ কনস্টেবল নাজমুল তারেকের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় অভিযোগ দেন লতা সমাদ্দর। যার জেরে চাকরি হারান পুলিশ কনস্টেবল নাজমুল। পরে তিনি চাকরি ফেরত চেয়ে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন, যা এখন তদন্তাধীন পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর চাকরি ফিরে পেতে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছেও আবেদন করেছেন তিনি।

নাজমুলের দাবি, ঘটনাটি পুরো বানোয়াট। যার কোনো প্রমাণও নেই। এছাড়া ঘটনাস্থলের পাশে থাকা মাস্কের দোকানদার পুরো ঘটনাটি দেখেছিলেন। তিনিও বলেছেন, আমি টিপ নিয়ে কিছু বলিনি।

ওই ঘটনার মাধ্যমে গোটা পুলিশ বাহিনীর ইমেজ নষ্ট করা হয়েছিল দাবি করে নাজমুল ঢাকা টাইমসকে বলেছেন, ‘বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক এ ঘটনায় আমার এবং গোটা পুলিশ বাহিনীর ইমেজ নষ্ট হয়েছে। সেসময় যারা ঘটনাটি না জেনেই আমাকে দোষী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানাভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে আমি মানহানির মামলা করতে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমার আইনজীবীর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছি। খুব শিগগিরই আমি মামলাটি করব।’

নাজমুল বলেন, ‘সে সময়ের কিছু স্কিনশর্ট ও গণমাধ্যমের সংবাদ দেখে দেখে আমি ডজনের বেশি অভিনেতা-অভিনেত্রী ও নির্মাতার নাম খুঁজে বের করেছি। তাদের মধ্যে রয়েছে, অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলন, সাজু খাদেম, প্রাণ রায়, সায়মন সাদিক, মনোজ প্রামাণিক, স্বাধীন খসরু, সুবর্ণা মুস্তাফা, চয়নিকা চৌধুরী, আশনা হাবিব ভাবনা, জ্যোতিকা জ্যোতি, ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর, দেবী শানু, নাজনীন হাসান চুমকী, সুষমা সরকার, ফারজানা চুমকী, কুসুম শিকদার।’

ওই সময় একটি গণমাধ্যমে নাজমুলের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি চোরাই বলে সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল। সেই প্রতিবেদন যিনি করেছিলেন, সেই প্রতিবেদকের বিরুদ্ধেও তিনি মামলা করবেন বলে জানান।

 

টিপ পরে ফেসবুকে প্রতিবাদ জানানো তারকাদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন চাকরিচ্যুত সেই কনস্টেবল
টিপ পরে ফেসবুকে প্রতিবাদ জানানো তারকাদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন চাকরিচ্যুত সেই কনস্টেবল

 

কোথায় আছেন নাজমুল তারেক?

বর্তমানে নাজমুল তারেক কোথায় আছেন আর কী করছেন, তা জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ঢাকা টাইমস। তিনি জানান, পরিবার নিয়ে টিকে থাকতে অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি এখন ছোটোখাটো ব্যবসায় উদ্যোক্তা হয়েছেন।

১৯৯১ সালে জন্ম নাজমুল তারেকের। যশোরের একটি হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। ২০১১ সালে কনস্টেবল পদে নিয়োগ পান। চাকরি হারানোর পর স্ত্রী ও দুই কন্যা নিয়ে রাজধানী ছেড়ে গ্রামে চলে যান তিনি।

বর্তমানে উদ্যোক্তা হিসাবে একটি ব্যবসা দাঁড় করেছেন নাজমুল। ডিটারজেন্ট, হারপিক, হ্যান্ডওয়াশ, ভিম, গ্লাস ক্লিনারসহ বোর্ড জাতীয় ফার্নিচার তৈরি করা হচ্ছে তার প্রতিষ্ঠানে।

নাজমুলের বয়ানে সেদিনের ঘটনা

নাজমুল বলেন, সেজান পয়েন্ট হয়ে আনন্দ সিনেমা হলের দিকে যাচ্ছিলাম। সেসময় ওই রাস্তায় অনেক জ্যাম থাকায় আমি উল্টো দিক দিয়ে যাই। একজন ভদ্র মহিলা মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে আসছিলেন। এসময় তিনি আমার বাইকে ধাক্কা খান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বাস্টার্ড বলে গালিগালাজ শুরু করেন। কিন্তু উল্টো পথে যাওয়ার কারণে আমি নত হয়ে সেখান থেকে সরে যেতে চাইলে ওই মহিলা আমার ইউনিফর্ম ধরে টান দিয়ে ফেলে দেয়।

কিন্তু পরে আমার সহকর্মীদের কাছ থেকে জানতে পারি, আমি নাকি ওই নারীকে হেনস্তা করেছি এবং বলেছি– ‘তুই টিপ পরছোস কেন।’ আসলে তার সঙ্গে টিপ নিয়ে কোনো কথাই হয়নি। এর প্রত্যক্ষ সাক্ষীও রয়েছে।

নাজমুল বলেন, ঘটনার সময় লতা সমাদ্দার আমার শার্টের কলার ধরে টান দিয়ে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি যে অপরাধ, তা ঢাকতেই টিপকাণ্ডের মতো গুজব ছড়ান। আমি ভুক্তভোগী। চাকরিরত অবস্থায় ছিলাম। এ জন্য কথা বলতে পারিনি। ঘটনায় কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।’