
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় গত তিন দিনে তিনটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৫ জন নিহতসহ কমপক্ষে ২৬ জন আহত হয়েছেন। একই স্থানে পর পর তিনটি দুর্ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। স্থানীয়রা এই মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে। এ নিয়ে আন্দোলনেও নামার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি সাদিক কায়েম জানিয়েছেন, এই মহাসড়কটি দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত করতে আশ্বাস দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সেখানে তড়িত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যকর উদ্যোগ নেবেন বলে উপদেষ্টা আশ্বাস দিয়েছেন।
চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় গত তিন দিনের দুর্ঘটনার সবকটি ঘটে সকাল বেলা। এর মধ্যে সোমবার (৩১ মার্চ) ঈদের দিন সকালে যাত্রীবাহী বাস ও মিনিবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচ তরুণ নিহত হন, আহত হন ৯ জন। গতকাল মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) ভোরে পর্যটকবাহী দুটি মাইক্রোবাস উল্টে ৯ জন আহত হন। আজ বুধবার (২ এপ্রিল) সকালে বাস মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন নিহত এবং পাঁচ জন আহত হয়েছেন।
একই স্থানে পর পর তিনটি দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা এই মহাসড়ক কমপক্ষে চার লেনে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে। এ অবস্থায় আজ দুপুরে চট্টগ্রামের বাসিন্দা ও ছাত্রশিবির নেতা সাদিক কায়েম ফেসবুকের এক পোস্টে লেখেন, ‘‘চট্টগ্রাম টু কক্সবাজার রোড যেন মরণ ফাঁদ। বিশেষ করে ঈদের সময়, প্রায় প্রতিদিনই প্রাণহানি হচ্ছে। ‘রোড সেইফটি’ বড় একটা কনসার্ন এখানে।’’
তিনি আরও লেখেন, ‘‘বিগত এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় এই রোডে প্রাণ হারিয়েছে ৮৭ জন মানুষ। আজকে প্রাণ হারিয়েছে ১০ জন। এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানের সাথে যোগাযোগ করেছি।’’
‘‘তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন— এই রোডকে দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে তড়িত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যকর উদ্যোগ নেবেন।’’