Image description

সমন্বয়ক পরিচয়ে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানকে সাত দিনের মধ্যে বদলির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাব্বির হোসেন নামে একজনের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় থানার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া একই সময় তিনি থানার ভেতর ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও সাংবাদিককে হেনস্তা করেছেন বলেও জানা গেছে।

সাব্বির হোসেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবিথানাধীন আব্দালপুর ইউনিয়নের সুগ্রীবপুর গ্রামের আবুল হোসেন পুন্টুর ছেলে। তিনি কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজে পড়াশোনা করেন।

জানা যায়, জমিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা সমাধান করতে থানায় আসেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা থানায় সমাধানের জন্য একমত হলেও বৈঠক শেষ হওয়ার পর সাব্বির নিজেকে সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে হট্টগোল শুরু করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এলাকাবাসী চলে যাওয়ার পর কুষ্টিয়া আঞ্চলিক দৈনিক সময়ের খবর পত্রিকার সাংবাদিক মহসিন কবিরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে হেনস্তা করেন সাব্বির। পরে তিনি থানার ভেতর দাঁড়িয়ে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ও বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শককে (ডিআইজি) মুঠোফোনে কল করে বিষয়টি জানিয়ে ওসিকে সাত দিনের মধ্যে বদলির হুমকি দেন।

এ বিষয়ে সাংবাদিক শেখ মহাসিন কবির বলেন, ‘আমি সাব্বিরের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও হট্টগোল দেখে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। এ সময় তিনি আমাকে সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। আমি কথা বাড়ালে আমাকে হেনস্তা করেন। আমি এটা কখনো প্রত্যাশা করিনি।’

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে সমন্বয়ক পরিচয়ধারী সাব্বির হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ঘটনাটি গ্রাম্যভাবে সমাধান হয়েছে। এই বিষয়ে আগামীকাল কথা হবে বলে লাইন কেটে দেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুষ্টিয়ার প্রতিনিধি তৌকির আহম্মেদ বলেন, সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে এ রকম ব্যবহার কখনোই কাম্য নয়। আর সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে এখন কোনো কাজ করা যাবে না সাংগঠনিকভাবে।

ইবি থানার ওসি শেখ মেহেদী হাসান বলেন, ‘ইবি থানাধীন সুগ্রীবপুর জমিসংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে থানায় মীমাংসা হয়। মীমাংসার পর এলাকাবাসী আমার সঙ্গে দেখা করতে এলে সমন্বয়ক পরিচয়দাতা সাব্বির ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন বলে অফিসার ও এলাকাবাসী আমাকে জানান। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। একজন শিক্ষার্থী বা সমন্বয়কের কাছ থেকে বিষয়টি প্রত্যাশিত না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাব্বির মাঝেমধ্যেই থানার অফিসারদের হুমকি-ধমকি দেন। সমন্বয়ক পরিচয়ে তিনি পুলিশ অফিসারদের মাঝেমধ্যেই খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ট্রান্সফারের হুমকি দেন। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও আমরা পেয়েছি। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছি।’