Image description
 

নাহিদ, হাসনাত, সার্জিসদের মতো তরুণরা কে কোন আসনে লড়বেন তা ইতিমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। আর এই তালিকা দেখে ধারণা করা হচ্ছে আসন্ন নির্বাচনে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতায়পূর্ণ হতে চলেছে। কারণ, এসব আসনে তরুণ নেতাদের লড়তে হবে অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীদের সাথে।

এনসিপি সূত্র জানিয়েছে, দলটির কয়েকজন তরুণ নেতা রাজনৈতিক পরিবারের হওয়ায় এলাকায় আগে থেকেই তাদের একটি ভালো অবস্থান রয়েছে। ছাত্রজনতার আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকায় অনেকেরই নিজস্ব প্রভাব তৈরি হয়েছে। আবার অনেকে আগে থেকে এলাকায় সামাজিক, সাংস্কৃতিক কাজে নিযুক্ত থাকায় এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এই তিন শ্রেণী ছাড়াও এনসিপির পক্ষ থেকে নেতৃত্বে আসতে চান এমন আগ্রহী আছেন অনেকেই।

ছাত্র অভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থাকা কয়েকজন তরুণ ঢাকা থেকেই নির্বাচনে লড়বেন বলে জানা গেছে।

 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পদে ছেড়ে আসা নাহিদ ইসলাম ঢাকা ১১, অর্থাৎ রামপুরা বনশ্রী আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এরই মাঝে তিনি এই এলাকায় সময়ও দিচ্ছেন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী চুড়ান্ত নয়। তবে ঢাকা উত্তরের বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ এ কাইয়ুম চেষ্টা চালাচ্ছেন।

 

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয় এমন এ হান্নান মাসুদ নোয়াখালী ৬ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি হাতিয়া দ্বীপে ফেরিঘাট চালু, ভূমিহীনদের জমি বুঝিয়ে দেওয়া, নদী ভাঙ্গন নিয়ে গ্রামে গ্রামে গণশুনানি কর্মসূচি করেছেন। গত সোমবার তিনি হামলার স্বীকারও হন। বিএনপি নেতা মাসুদকে ও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই আসনে বিএনপির হেভিওয়েট কোনো প্রার্থীর নাম এখনো শোনা যায়নি।

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সার্ভিস আলম পঞ্চগড় ১ আসনের প্রার্থী হতে চান। গত সোমবার গাড়িবহর নিয়ে তিনি এলাকায় শো ডাউন করেন। এই আসনে ২০১৮ সালে বিএনপির প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তরুণ নেতা ব্যারিস্টার নওশাদ জমির। 

সময়ের সর্বাধিক আলোচিত মুখ হাসনাত আব্দুল্লাহ, কুমিল্লা ৪ থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাকে এলাকায় নিয়মিত সভা ও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেখা যায়। অভ্যুত্থানের প্রথম সারির নেতা হিসেবে তিনি কিছুটা শক্ত অবস্থানে থাকবেন। এই আসনে থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেতে পারেন এ এফ এম তারেক। তিনি প্রার্থী হলে হাসনাত কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বীতায় পড়তে পারেন।

জেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ভোলা ১ আসন থেকে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেলেও এনসিপি সূত্র জানিয়েছে তাকে ঢাকা ৯ আসনের প্রার্থী করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাকে লড়তে হতে পারে মির্জা আব্বাসের সাথে।

এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ১৭ অর্থাৎ গুলশান ক্যান্টনমেন্ট আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা। তাই যদি হয়, তাহলে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে আন্দালিব পার্থর সাথে।

বিভিন্ন আসনে বিএনপির প্রার্থীদের প্রভাব বেশি থাকায় তরুণ নেতারা সুবিধা করতে পারবেন না বলে মনে করছেন অনেকে। আবার অনেক আসনে বিএনপির বা উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তেমন বেগ পাবে না তরুণ নেতারা, এমনটা ধারণা সাধারণ মানুষের।