Image description

শের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষে উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহণের জন্য ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার পাশলিয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম পাড়ি জমিয়েছিলেন জাপানে। তবে স্বপ্নবাজ এ মানুষটি চাকরি না করে বেছে নিয়েছেন স্বাবলম্বী হওয়ার ভিন্ন পথ। দেশে ফিরে গ্রামের ১০ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলেন ‘রাইহান জৈব কৃষি প্রকল্প’ নামের মৎস্য খামার। যেখানে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেন ঝিনুকের। আর এ ঝিনুক থেকে মুক্তা সংগ্রহ করে নিজেই গহনা প্রস্তুতের প্রথম ধাপ সম্পন্ন করেন । চার বছরের নিরলস পরিশ্রমে স্বপ্ন আজ সফল হয়েছে কৃষি উদ্যোক্তা নজরুল ইসলামের। 

২০২১ সালে শুরু করা এই প্রকল্পে বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজার ঝিনুক রয়েছে। প্রাকৃতিক উপায়ে চাষ করা এসব ঝিনুক থেকে মূল্যবান মুক্তা সংগ্রহ করা হয়। মুক্তা সংগ্রহের পর ঝিনুকের অবশিষ্টাংশ মাছ ও পোলট্রি মুরগির খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া, পরিত্যক্ত ঝিনুক গুঁড়ো করে মুক্তা তৈরির উপাদান বের করা হয়।

গত রোববার (২৩ মার্চ) রাইহান জৈব কৃষি প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, দৃষ্টিনন্দন এই খামারে একটি মুক্তা গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করেছেন নজরুল ইসলাম। যেখানে চাষিদের ঝিনুক চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। গবেষণাগারের মেশিনে ঝিনুক কেটে মুক্তাও সংগ্রহ করেন নজরুল। 

ঝিনুক থেকে মুক্তা বের হওয়ার পর এর ব্যবহার সম্পর্কে নজরুল ইসলাম জানান, মুক্তা সংগ্রহের পর ঝিনুকগুলো বিক্রি করা হয়। পরিত্যক্ত ঝিনুক থেকে মাছ ও পোলট্রি মুরগির খাবার তৈরি হয়। মেশিনের মাধ্যমে ঝিনুক কেটে ও পলিশিং করে মুক্তা সংগ্রহ করা হয়। এরপর গহনা তৈরির প্রথম ধাপ সম্পন্ন করা হয়। খামার থেকে বছরে প্রায় ১০ লাখ টাকার মুক্তা বিক্রি হয়।

গত চার বছর ধরে মুক্তা চাষ নিয়ে কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ নজরুল ইসলাম জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন। 

পাশলিয়া গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, নজরুল ভাই আমাদের গ্রামে মুক্তা চাষ করেন । অনেক স্থান থেকে এ মুক্তা চাষ মানুষ দেখতে আসে। আমাদের এটা ভালো লাগে। 

মনির হোসেন নামে আরেকজন বলেন, তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছেন। এটি নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ ।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নজরুল ইসলাম জানান, এটি একটি সমন্বিত কৃষি খামার। দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য সীমিত জমিকে কীভাবে সর্বোচ্চ ব্যবহার করা যায়, সেই চেষ্টা তিনি করছেন।