
Aman Abdullah (আমান আবদুল্লাহ)
হে গোলামস্য গোলাম,
তুমি তোমার এক জীবনে হাজার জীবনের সেবা দিয়েছো। সেই সেবার প্রতিদানও দিয়েছে ভাড়োৎবাবু। দাসীকে দিয়েছে পদ্মশ্রী পুরস্কার। গোলামদের সমাজে সেই পুরস্কার নিয়ে তুমি প্রভাবশালী হয়েছো। কথা ছিলো বাংলাদেশে এই পুরস্কার হবে কলংকের চিহ্ন। লজ্জায় মুখও দেখাইতে পারবা না। কিন্তু গোলামদের হিসাব কিতাব, বিবেচনাবোধ অন্যরকম। গোলাম-উপযুক্ত। সুতরাং তারা এটাকে সম্মান হিসেবে বিশ্বাস করে। সেই সম্মান নিয়ে দীর্ঘ জীবন সেবা করে বগলকাটা ব্লাউজ ও বাটির সমান লাল টিপ পরে তুমি আজ চলে গেলে। আশা করি ওপারে আরেক গোলাম পদ্মভূষণ অধ্যাপক আনিসুজ্জামান চাটারের সাথে তোমার প্রথম সাক্ষাৎ হবে। তাকে আমাদের পক্ষ থেকে অভিশাপ পৌছে দিও।
হে দাসী,
তুমি চলে যাওয়ায় আজ গোলাম সমাজ শোকে মুহ্যমান। তারা কোথায় পাবে তোমার মতো রঠাসেবিকা? তোমার অভাব কিভাবে পূরণ হবে? মির্জা শোকরুল স্যার একটা শোকবার্তা দেয়ার জন্য উশখুশ করতেছে। একটু ঠেলা পেলেই জামায়াত ও হেফাজত যৌথ বিবৃতিতে তোমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করবে। তুমি প্রয়ান করেছো, কিন্তু তোমার জানাযা নামের নাটক করার জন্য এই গোলাম সমাজে মোল্লার অভাব হবে না। সব মিলে তুমি ছিলে সৌভাগ্যবান, গোলামদের মাঝে গোলাম-কুইন হিসেবে রাজত্ব করেছো। এই সম্মান বিরল।
হে ছায়ানটী,
তোমার চলে যাওয়ার তোমার শিষ্যকূল বিলাপ জুড়ে দিয়েছে। ওরা আসলে তোমার জন্য দুই পয়সার শোক করে না। বরং তোমার জন্য কান্নাকাটি যত বেশি করবে, ভাড়োৎদাদার সুনজরে পড়ার সম্ভাবনা তত বেশি, এই বোধ তাদের আছে। এই তাড়না থেকে তারা তোমাকে তেলাচ্ছে। তুমি হইছো পকাৎ, অর্থ্যাৎ মরছো, সাধারণ মানুষে বলবে মারা গেছো, সাধু ভাষায় বললে বলা যায় মৃত্যুবরণ করেছো অথবা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছো, পোগতিশীলরা বলবে ওপারে পাড়ি জমাইছো অথবা চলে গেছো অথবা জীবনাবসান ঘটেছে, তোমার সারা জীবনের সমস্ত বিদ্বেষের টার্গেট লোকজন বললে হয়তো বলবে ইন্তেকাল করছো, এতো চয়েজ থাকার পরও তোমার জন্য ভাকুর গোলামরা নতুন শব্দ আবিস্কার করেছে। তুমি না কি মুক্তি নিয়েছো!!
এই কথাটা আজ আমাদের মনে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রথম কথা হলো, এতোদিন তুমি কুথায় বন্দী ছিলে? দ্বিতীয় কথা হলো, মুক্তি নিয়ে কোথায় গেছো? তৃতীয় কথা হলো, তাহলে কি উচ্চস্তরের ভাড়ৎদাসী হিসেবে তোমার প্রতিটা কাজকে এই ধরণের গান্ডু-রাবিন্দ্রিক নাম দিতে হবে? মরা হইছে মুক্তি নেয়া, খাওয়া হবে গ্রহণ করা, হাগা হবে পরিত্যাগ করা, গাওয়া হবে সূরের লহরী তৈরি করা, হারমোনিয়াম বাজানো হবে যন্ত্রমৈথুন করা, এইরকম? অতি শ্রদ্ধার ঠেলায় তুমি তো তোমার ভক্তকূলকে বিশাল মুশকিলে রেখে গেলে হে পদ্মশ্রী সনজীদা চাটার।
হে হাম্মালাতাল হাতাব,
আশা করা যায় দুনিয়া থেকে মুক্তি নিয়ে হাবিয়ায় চলে গেছো, কিন্তু আসলে তো তুমি যাওনি। থেকে গিয়েছো গোলামদের মগজের শিরায় শিরায়। স্মৃতিতে, সম্মানে। লক্ষ গোলামকে তুমি রেখে গিয়েছো অনুপ্রাণিত।