ভাষা আন্দোলনের অন্যতম বীর শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্তের পৈতৃক বাড়ি ও একটি পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিয়ে চরম নোংরামি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বাড়িটি কম দামে হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা এবং পরিবারটিকে গত দুই বছর ধরে হয়রানি করার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। রোববার (৮ নভেম্বর) বিষয়টি নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের।
ফেসবুক পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের উল্লেখ করেন, একটি পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিয়ে চরম নোংরামি করা হচ্ছে। মূলত স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী বাড়িটি কেনার জন্য মালিকপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠায়। তারা শর্ত দেয় যে, বাড়িটি তাদের কাছে বিক্রি না করলে এটিকে ‘সংরক্ষিত সম্পদ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে।
মালিকপক্ষ যখন সম্পত্তিটি বিক্রি করতে রাজি হয়, তখন বাজার মূল্যের চাইতে অর্ধেকেকম দাম প্রস্তাব করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই মালিকপক্ষ এতে রাজি না হওয়ায় একজন প্রভাবশালী আইনজীবীর মদদে গত দুই বছর ধরে পরিবারটিকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আর বর্তমানে এই হয়রানির সাথে যুক্ত হয়েছে এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও অনুসারীরা।
উল্লেখ্য, জুলকারনাইন সায়েরের এই পোস্টে তিনি ‘ধীরেন্দ্র নাথ দত্তের বাড়ির সাইনবোর্ড ভেঙে স্মৃতি জাদুঘরের দাবি এনসিপি নেতাকর্মীদের’ শিরোনামে একটি সংবাদের লিঙ্কও তিনি শেয়ার করেন।
এর আগে ভাষা আন্দোলনের অগ্রপথিক, অবিভক্ত পাকিস্তানের গণপরিষদের প্রথম ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের গণপরিষদে প্রথম বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেছিলেন। তার এই ঐতিহাসিক ভূমিকা বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনে বিরাট অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা এই মহান নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
ইতিহাসের এমন একজন বরেণ্য ব্যক্তির পৈতৃক বাড়ি ও স্মৃতিবিজড়িত সম্পত্তি আজ প্রভাবশালী চক্রের লোলুপ দৃষ্টি এবং হয়রানির শিকার হওয়া নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার খর্ব করে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি পরিবারকে এভাবে কোণঠাসা করার ঘটনা আইনের শাসনের প্রতি এক বিরাট চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।