Image description
গাজীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ( ব্রি ) গবেষণাকাজে ব্যবহৃত পুকুরটি নিয়ম ভেঙে ইজারা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে । সেখানে চাষ করা মাছ শ্রমিকনেতারা বিক্রি করে দিয়েছেন বলেও জানা গেছে । জনপ্রতি ১০ হাজার টাকার টিকিটের মাধ্যমে এসব মাছ বিক্রি করা হয়েছে । তবে এই টাকা জমা হয়নি ব্রির তহবিলে ।
ব্রির খামারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন , ব্রির প্রধান কার্যালয়ের শ্রমিক কলোনিতে অবস্থিত পুকুরটি মাছ চাষ ও গবেষণার পানি সংরক্ষণের কাজে ব্যবহারের কথা । মাছ চাষের পর উৎপাদিত মাছ শ্রমিকদের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে বিক্রির নির্দেশনা রয়েছে । তবে পুকুরটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অনুমতি নেই । ব্রি সূত্রে জানা গেছে , নির্দেশনা উপেক্ষা করে পুকুরটি প্রায় দুই লাখ টাকায় লিজ দেওয়া হয়েছে । গত ৩১ অক্টোবর সরকারি ছুটির দিনে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকায় টিকিট বিক্রির মাধ্যমে

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট » মাছ ধরার জন্য জনপ্রতি । » ২০০৯ সালে মাছ বিক্রির ১০ হাজার টাকা টিকিট বিক্রি হয়েছে ।

» মাছ বিক্রির টাকায় ক্লাব পরিচালিত হয় বলে দাবি শ্রমিকনেতার ।

পুকুরে বড়শি দিয়ে মাছ ধরা হয়েছে । তবে এভাবে মাছ বিক্রি এবং পুকুরকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের ঘটনায় ব্রি কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন ছিল কি না , তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে । মাছ বিক্রির অর্থের ভাগ - বাঁটোয়ারা কারা পেয়েছে , তা নিয়েও নানা আলোচনা- সমালোচনা রয়েছে । ২০০৯ সালে পুকুর লিজ এবং মাছ বিক্রির একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রির ১০ জন শ্রমিকের চাকরি চলে গিয়েছিল । খোঁজ নিয়ে

ঘটনায় চাকরিচ্যুত হন ১০ শ্রমিক । » এই পুকুর বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ নেই : ব্রির মহাপরিচালক

বর্তমান ঘটনার সঙ্গে ১৭ বছর আগের মাছ বিক্রির যোগসূত্র পাওয়া গেছে । নাম প্রকাশ না করার শর্তে গবেষণা সংস্থাটির একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে জানিয়েছেন , পুকুর লিজ ও মাছ ধরার টিকিট বিক্রির ঘটনার সঙ্গে ব্রির শ্রমিকনেতা মো . আলমগীর হোসেন এবং এআরডি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড . মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান মুকুল জড়িত রয়েছেন ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো . আলমগীর হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন , “ এই পুকুরের মাছ বিক্রির টাকায় আমাদের ক্লাব পরিচালনা করি । ' নিজেদের অর্থ খরচ করে পুকুরে মাছ চাষ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি । আলমগীর হোসেন বলেন , ‘ ২০০৯ সালে মাছ বিক্রির ঘটনায় রাজনৈতিক কারণে ১০ জন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয় ।

এই পরিবারগুলো ১৭ বছর খেয়ে না খেয়ে ছিল । ওই দিনের মাছ বিক্রির টাকা তাদের ভাগ করে দেওয়া হয়েছে । আর কিছু অর্থ ক্যারম বোর্ডসহ ক্লাবের বিনোদন সরঞ্জাম কেনায় খরচ করা হয়েছে । ” একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করে তাঁদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও দাবি আলমগীরের । ব্রির পরিচালক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানান , চলতি বছরের মে মাস থেকে সংস্থাটিতে মহাপরিচালক নিয়োগের ইস্যু নিয়ে অস্থিরতা শুরু হয় । 

পরে ১৫ জুলাই মো . রফিকুল ব্রির মহাপরিচালক নিযুক্ত হলেও অস্থিরতা কাটেনি ; বরং সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম ও অস্থিরতা বেড়েছে । কিছু ব্যক্তি নিয়ম ভেঙে নিজেদের খেয়ালখুশিমতো অপকর্ম করছেন । এ সময় একাধিক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে । অনিয়মের ঘটনাগুলো বর্তমান মহাপরিচালকের প্রশ্রয়ে ঘটছে বলেও অভিযোগ রয়েছে । অভিযোগের বিষয়ে জানতে

চাইলে ব্রির মহাপরিচালক মো . রফিকুল ইসলাম গত বুধবার আজকের পত্রিকাকে বলেন , “ শুষ্ক মৌসুমে এই পুকুরের পানি গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হয় । আশপাশের কৃষিজমিতে পুকুরের পানি দিয়ে সেচ দেওয়া হয় । এই পুকুর বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ নেই । ” ব্রির মহাপরিচালক আরও বলেন , বর্তমানে তিনি দেশের বাইরে রয়েছেন । দেশে ফিরে ঘটনার সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন ।