রেলক্রসিং পার হওয়ার পরপরই শিক্ষা সফরের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে পড়ে পুরোপুরি উল্টে যায়। এমনকি বাসের সামনের কিছুটা অংশ ডোবার পানিতে ডুবে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চালক ঘুমের ঘোরে থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোর ৪টার দিকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট রেলক্রসিং সংলগ্ন কেবিএম ইটভাটার সামনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে শিক্ষা সফরের বাস দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এমন ধারণার কথা জানিয়েছেন, দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল আবছার।
তিনি আরও বলেন, সাধারণত ভোররাতে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর অধিকাংশই চালকের ঘুমের ঘোরে বা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় গাড়ি চালানোর কারণে ঘটে থাকে। এ সময় দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চালানোর ফলে চালকের ক্লান্তি ও ঘুমের প্রবণতা তৈরি হয়। এ দুর্ঘটনাটিও চালকের ঘুমের ঘোরে নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ দুর্ঘটনায় কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল সুন্নিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক সোহানা আফরোজ এবং একই মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের প্রভাষক নাদেরা আফরোজের স্বামী সাখাওয়াত হোসেন ইসরাফিল নিহত হয়েছেন। এতে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং কর্মচারী আহত হন।
শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকেরা মিলে শিক্ষা সফরে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন। কেরানীহাট রেলক্রসিং পার হওয়ার পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে পড়ে উল্টে যায়। বাসটিতে চালক ও সহকারীসহ মোট ৬১ জন যাত্রী ছিলেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।