Image description

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আমলে কেনা বহুল আলোচিত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে মামলা ও তদন্তসহ আইনি জটিলতায় থাকা কিছু মেশিন সংরক্ষণ করা হবে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থেকে নষ্ট হওয়া এবং সংরক্ষণে বিপুল অর্থ ব্যয়ের কারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ অক্টোবর কমিশনের ১৩তম সভায় ইভিএম নিয়ে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তবে মামলা ও তদন্তের স্বার্থে যেসব মেশিন প্রয়োজন, সেগুলো সংরক্ষণ করা হবে।

২০১৮ সালে ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দেড় লাখ ইভিএম কেনে নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে কমিশনের কাছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪০১টি মেশিন রয়েছে। বাকি ১ হাজার ৫৯৯টির কোনো খোঁজ নেই। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় সংরক্ষিত মেশিনগুলোর অনেকগুলো নষ্ট হচ্ছে।

ইভিএম সংরক্ষণে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) গুদাম ভাড়া বাবদ বকেয়া দাঁড়িয়েছে ৭০ কোটি ৪০ লাখ টাকার বেশি। পাশাপাশি দেশের ৪১টি জেলার বেসরকারি গুদাম ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

ইভিএম প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলাও হয়েছে। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের তিন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সংস্থাটি। প্রকল্পটি নিয়ে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের নিরীক্ষা আপত্তিও রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, কমিশন যত দ্রুত সম্ভব ইভিএমগুলোর নিষ্পত্তি করতে চায়। তবে দুদকসহ বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বুয়েটের তৈরি ইভিএম ব্যবহার করা হয়। পরে ২০১৮ সালে বড় পরিসরে দেড় লাখ ইভিএম কেনে ইসি। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাত্র ছয়টি আসনে এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুনে কয়েকটি পৌরসভা নির্বাচনে এসব মেশিন ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত রয়েছে কমিশনের।