Image description

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শহিদ ফরহাদ হোসেন হলের জায়গা দখল করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই দোকান স্থাপনের ঘটনার নিউজ করায় সাংবাদিকের নামে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মুঠোফোনে হাটহাজারী থানায় জিডি দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এসআই নূর মোহাম্মদ।  

 

তিনি জানান, চবি শিক্ষার্থী শামীম ভূঁইয়ার নামে একটি জিডি করা হয়েছে। মানহানির অভিযোগ তুলে হাটহাজারী থানায় এই জিডি করেন মাহমুদুল হাসান বিপ্লব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী এবং চবি ছাত্রদলের কর্মী। জিডিতে সাক্ষী হিসেবে আছেন শিশির মাহমুদ ( অবৈধ দোকান দেওয়া ছাত্রদল নেতা)।

জানা গেছে, চবি ছাত্রদলের বিতর্ক সম্পাদক শিশির মাহমুদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ ফরহাদ হোসেন হল সংশ্লিষ্ট জায়গা দখল করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে দোকান স্থাপন করেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন একুশে টিভির ক্যাম্পাস প্রতিনিধি শামীম ভূঁইয়া। পরবর্তীতে একাধিক গণমাধ্যমে সে সংবাদ প্রকাশের পরদিন ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে থানায় জিডিটি দায়ের করা হয়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিক শামীম ভুঁইয়া বলেন, ‘চবি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হলের জায়গা দখল, হলের সৌন্দর্য নষ্ট করাসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই দোকান নির্মাণের অভিযোগ পাওয়ার পর আমি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করেছি। মূলত এসব অনিয়ম ও দখলের চিত্র বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরার কারণেই তারা আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সেই ক্ষোভ থেকেই আমার বিরুদ্ধে এই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করাই আমার কাজ। অথচ স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় বাঁধা প্রদানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

জিডির সাক্ষী হওয়া শিশির মাহমুদ সন্ধ্যায় দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের কাছে দাবি করেন, ‘জিডি দায়ের করা ওই সাংবাদিকের নিউজে ব্যবহার করা ছবিতে মানক্ষুণ্ন হয়েছে। সেখানের অনেকেই ছাত্রদল নেতা ছিলেন না, যার ফলে তাদের কেউ হয়ত সাধারণ ডায়েরিটি (জিডি) করে থাকতে পারেন। তবে কে করেছেন, এটি আমি জানি না।’

তবে গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় মুঠোফোনে ডেইলি ক্যাম্পাসকে এই নেতা বলেছেন, ‘সেখানে আমাদের ছাত্রদলের ছেলেরা বসেছিল। নিউজে সেই ছবি তুলে দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে মাহমুদুল হাসান বিপ্লবের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন সাড়া দেননি।