Image description

সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণের কাজে বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতি সামাল দিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে শিল্প, গৃহস্থালি ও সিএনজি খাতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে পেট্রোবাংলা।

পেট্রোবাংলার সরবরাহ সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে ৪ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছিল। বুধবার (৪  নভেম্বর)) তা কমে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট।

তবে এতে বিদ্যুতের ঘাটতি হয়নি বলে দাবি পিজিসিবির। তাদের হিসাবে,বুধবার বিকাল ৪টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩ হাজার ১৩৫ মেগাওয়াট। এ সময় চাহিদার পুরোটাই সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল না।

তিতাসের এক কর্মকর্তা জানান, গ্যাস সরবরাহ কমলেও গার্মেন্টস বন্ধ থাকায় গ্যাসের চাহিদা কম। সে হিসাবে খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ কমানো হলেও অন্য জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করায় এখনো বিদ্যুতের কোনও ঘাটতি নেই।

এদিকে গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে আবাসিক গ্রাহকদের ভোগান্তি আগের মতোই রয়েছে। অনেক এলাকায় চুলায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্নার কাজে সমস্যা হচ্ছে। একইভাবে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও গ্যাসের চাপ বুধবার (৪ নভেম্বর)  সকাল ৮টায় দেশে গ্যাসের মোট সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৫৪০ মিলিয়ন ঘনফুট। সকাল ১০টায় তা কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৯ মিলিয়ন ঘনফুটে। দুপুর ২টায় সরবরাহ কিছুটা বেড়ে ২ হাজার ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট হয়। অর্থাৎ সকাল ৮টার তুলনায় দুপুর ২টায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কম ছিল ৪৩০ মিলিয়ন ঘনফুট।

 

বুধবার সকাল ৮টায় দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ ছিল ১ হাজার ৫৬৬ মিলিয়ন ঘনফুট। আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে পাওয়া যাচ্ছিল ৯৭৪ মিলিয়ন ঘনফুট। সকাল ১০টায় আরএলএনজি সরবরাহ কমে দাঁড়ায় ৫১৪ মিলিয়ন ঘনফুটে। দুপুর ২টায় তা সামান্য বেড়ে ৫৪০ মিলিয়ন ঘনফুট হয়। এ সময়ে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ প্রায় একই পর্যায়ে ছিল।

প্রসঙ্গত, সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৮০ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টার্মিনালটির কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ফলে এ সময় জাতীয় গ্রিডে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ কম থাকবে। এতে গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করবে বলে পেট্রোবাংলা আগেই জানিয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতি ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক প্রায় ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হয়। সেই হিসাবে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট উৎপাদন কমানোর ফলে দৈনিক প্রায় ২২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা কমে। এভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে অন্য খাতে সরবরাহের ঘাটতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।