রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মাদক নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করার জেরে এক নারীর বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় করা মামলার এক আসামিকে নিজের ছেলেকে থানায় নিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন জামাল মুন্সি নামে এক বিএনপি নেতা।
বুধবার (০৪ নভেম্বর) অভিযুক্ত ওই ছেলেকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। জামাল মুন্সি গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। আগামীতে দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়ে তিনি কাজ করছেন।
আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ছেলেকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় ছেলের সম্পৃক্ততার কথা শুনে ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা করতেও সহায়তা করেছেন।
গত সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গোয়ালন্দ পৌরসভার কুমড়াকান্দি গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ফরিদা বেগম (৪৩) মঙ্গলবার গোয়ালন্দ ঘাট থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৪-১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ফরিদা ওই গ্রামের সিদ্দিক মোল্লার স্ত্রী।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন কুমড়াকান্দি গ্রামের বিপ্লব শেখের ছেলে রাকিব (২৩), কলেজপাড়ার জামাল মুন্সির ছেলে বাঁধন (২০), কুমড়াকান্দি গ্রামের সিদ্দিক শেখের ছেলে ইমন (২৫) ও বাবলু শেখের ছেলে সাগর (২৫)।
মামলার ২ নম্বর আসামি বাঁধনকে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থানায় নিয়ে যান তার বাবা জামাল মুন্সি। এর আগে ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বক্তব্যে তিনি জানান, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ছেলেকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করছেন। হামলার ঘটনায় ছেলের সম্পৃক্ততার কথা শুনে তিনি নিজেই ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়িতে যান এবং মামলা করতে তাদের সহায়তা করেন বলেও দাবি করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানান নেটিজেনরা।
এ বিষয়ে জামাল মুন্সি বলেন, ‘আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। ঘটনার আগে রাকিব আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায়। সে ওই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। ঘটনার পরও সে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না।’ মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ, প্রশাসন, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।
মামলার বাদী ফরিদা বেগমের অভিযোগ, হামলাকারীরা লোহার রড ও স্টিলের পাইপ নিয়ে অতর্কিতে তাদের বাড়িতে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে তার মেয়ে স্মৃতির (২৪) একটি হাত ভেঙে যায়। এ ছাড়া তার ছেলের স্ত্রী সিনথিয়া (১৮), মেয়ের জামাই নাজমুল (২৩) এবং তিনি নিজেও মারধরের শিকার হন।
ফরিদা বেগম আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা ঘরের আলমারিতে রাখা নগদ ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি সোনার চেইন নিয়ে যায়। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মাদক নিয়ে আর কোনও কথা বললে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
ফরিদা বেগমের দাবি, রাকিব ও বাঁধন কুমড়াকান্দি এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী। তাদের সঙ্গে মিশে তার ছেলে স্বাধীনও (২৩) মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দুই মাস আগে তারা স্বাধীনকে এসিল্যান্ডের ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করেন। আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠান। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলায় রাকিব, বাঁধন ও তাদের সহযোগীরা পরিবারের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি বাঁধনকে তার বাবা থানায় সোপর্দ করেছেন। আজ ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’