Image description

পৃথিবীর আলো দেখার পরই তার ঠাঁই হয়েছিল বালুর নিচে। লুঙ্গিতে মোড়ানো ছোট্ট শরীরটি পুঁতে রাখা হয়েছিল একটি আমবাগানে। ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যায় শিশুটি। স্থানীয় এক ব্যক্তির সহায়তায় ফিরে পায় নতুন জীবন। এবার তার নতুন ঠিকানা রাজশাহীর ছোটমনি নিবাস। সেখানে অন্য শিশুদের সঙ্গে বেড়ে উঠবে সে। পাবে নিরাপদ আশ্রয়, যত্ন আর ভালোবাসা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের জালমাছমারী এলাকার সেই নবজাতককে আজ বুধবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে ছোটমনি নিবাসের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিবগঞ্জ সমাজসেবা কার্যালয় শিশুটিকে রাজশাহীর বোয়ালিয়ায় অবস্থিত সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত এ নিবাসে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নুরুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

শিবগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানালেন, মঙ্গলবার সকালে জালমাছমারী এলাকার একটি আমবাগানে বালুর মধ্যে পুঁতে রাখা অবস্থায় নবজাতকটিকে দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দা গোলাপ হোসেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্রুত শিশুটিকে শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান, শিশুটি সুস্থ রয়েছে। এরপর শুরু হয় তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখার আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে শিশুটির দায়িত্ব দেওয়া হয় সমাজসেবা অধিদপ্তরের ছোটমনি নিবাসকে। বুধবার দুপুরে তাকে সেখানে হস্তান্তর করা হয়।

রাজশাহী সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনিরা খাতুন বলেছেন, ‘আমি জেনেছি, নবজাতকটিকে ছোটমনি নিবাসে নিয়ে আসা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে শিশুটির যথাযথ পরিচর্যার ব্যাপারে বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছি।’

তিনি আরও বললেন, ‘আমাদের এই ছোটমনি নিবাস তৈরি করা হয়েছে মূলত এমন শিশুদের জন্যই। এ ধরনের অনেক শিশু এখানে রয়েছে। তারা এখানেই বড় হচ্ছে, মানুষ হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া শিশুটিও অন্য শিশুদের মতো বেড়ে উঠবে, মানুষ হবে— এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

যে আমবাগানে শিশুটির জীবনের শুরুতেই এমন নির্মম অভিজ্ঞতা হয়েছিল, সেখান থেকে এখন তার ঠিকানা নিরাপদ আশ্রয়ে। সামনে কী অপেক্ষা করছে, তা এখনই বলা যায় না। তবে ছোটমনি নিবাসে তার জন্য রয়েছে বেড়ে ওঠার সুযোগ। প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও স্নেহের পরশে অন্য শিশুদের মতো তার জীবনও এগিয়ে যাবে— এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।