Image description

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) বিভিন্ন হল সংসদের মাধ্যমে জিমনেসিয়াম সরঞ্জামাদি দেওয়াকে বিধিবহির্ভূত বলেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে রাকসুর নাম ব্যবহার করে কোনো ছাত্রসংগঠনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রশাসনের এমন বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ‘ননসেন্স ও গাম্বাট’ বলেছেন রাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক পেজে জনসংযোগ দপ্তরের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। ওই বিজ্ঞপ্তির পোস্টের মন্তব্যের ঘরে প্রশাসনকে ‘ননসেন্স ও গাম্বাট’ বলে উল্লেখ করেন সালাহউদ্দিন আম্মার।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) কর্তৃক বিভিন্ন হল সংসদের মাধ্যমে জিমনেসিয়াম সরঞ্জামাদি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গোচরীভূত হয়েছে। এসব সংবাদ বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী বলে কর্তৃপক্ষ মনে করে।’

 
 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘এই প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হচ্ছে, রাকসু ও হল সংসদের মেয়াদ ২৬ অক্টোবরে উত্তীর্ণ হয়েছে। তাই ঐ তারিখের পর তাদের কোনো কার্যক্রম বিধিসম্মত নয়। আবার রাকসুর নাম ব্যবহার করে কোনো ছাত্র সংগঠনের তৎপরতাও বিধিবহির্ভূত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ছাত্র সংগঠনকে রাকসু ও হল সংসদের নাম ব্যবহার করে কর্মকাণ্ড চালানো থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানাচ্ছে।’

 

এদিকে বিজ্ঞপ্তির ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে রাকসুর সাবেক জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার লেখেন, ‘ কতবড়ো ননসেন্সগুলা, গাম্বাট বসে আছে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে একটাবার চিন্তা করেন। রাকসুর সর্বশেষ অধিবেশন হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর। তারপর এই বাজেট উত্তোলন করতে পেরেছি এ মাসের ২১ তারিখ। ১১টি ছেলেদের হল আর মেয়েদের কেন্দ্রীয় জিমনেসিয়াম এর জিনিস অর্ডার করে নিয়ে আসতে সময় লেগেছে। এজন্য এখন আর এই কাজ করা যাবে না। অধিবেশনে পাস হওয়া এখনো মিনিমাম ডজনখানেক কাজ চলমান। তো এগুলো রাকসু শেষ করবে না?’

রাকসুর সাবেক এজিএস সালমান সাব্বির লেখেন, ‘প্রশাসক মহোদয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যই রাকসুর সভাপতি। তার অনুমোদনক্রমেই রাকসুর ফান্ড থেকে অর্থ উত্তোলন করে এসব কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আর এ কার্যক্রম নতুন নয়। বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই এর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগছে মাত্র। সামনেও এ ধরনের আরও কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে।’

উল্লেখ্য, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে ছেলেদের ১১টি আবাসিক হল ও মেয়েদের কেন্দ্রীয় জিমনেসিয়ামের জন্য ব্যায়ামের সরঞ্জাম সরবরাহ করে রাকসু। এছাড়া তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড়দের অনুশীলনের জন্য দুটি বক্সিং ব্যাগ সরবরাহ এবং ছেলেদের কেন্দ্রীয় জিমনেসিয়াম সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান রাকসুর সাবেক নেতারা।