মাসের পর মাস প্রচার-প্রচারণা, বিপুল অর্থ ব্যয় আর রাজনৈতিক উত্তেজনার পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এবারের নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। জনমত জরিপে এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। তবে অতীতের নির্বাচনে জরিপের পূর্বাভাস সব সময় সঠিক হয়নি। তাই শেষ পর্যন্ত ফল কোন দিকে যায়, তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত বিবিসির এক বিশ্লেষণে এবারের নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে ৩টি পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়, সীমিত ব্যবধানে জয় এবং রিপাবলিকানদের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা।
প্রথম সম্ভাবনা: ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় এই পরিস্থিতিতে প্রতিনিধি পরিষদে শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনই নয়, ২১৮ আসনের প্রয়োজনীয় সীমা ছাড়িয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে যেতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। এমনকি যেসব আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস রয়েছে, সেগুলোর বাইরেও রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতে জয় পেতে পারে দলটি।
সিনেটেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পেতে হবে ডেমোক্র্যাটদের। টেক্সাস ও কানসাসের মতো ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান-প্রভাবিত রাজ্যে জয় পেলে পরিস্থিতি আরও বদলে যেতে পারে।
এমন ফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার দলের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হতে পারে। কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে আগামী দুই বছর হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক বিরোধ বাড়তে পারে।
দ্বিতীয় সম্ভাবনা: ডেমোক্র্যাটদের সীমিত জয় এ ক্ষেত্রে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটরা পেলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুব বেশি হবে না। ফলে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করতে দলের মধ্যপন্থি ও বামপন্থি সদস্যদের মধ্যে সমঝোতা করতে হবে।
সিনেটে এক বা দুটি আসন বাড়তে পারে দলটির। তবে মেইন, মিশিগান ও আলাস্কার মতো রাজ্যে রিপাবলিকানদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে বড় সাফল্য নাও আসতে পারে। অন্যদিকে নির্বাচনের দিন রিপাবলিকান ভোটারদের উপস্থিতি বেড়ে গেলে ব্যবধান আরও কমে যেতে পারে। এতে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ দুই দলের হাতে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ফলে আইন প্রণয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে।
তৃতীয় সম্ভাবনা: রিপাবলিকানদের সাফল্য এই পরিস্থিতিতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণই ধরে রাখতে পারে রিপাবলিকানরা। সে জন্য জনমত জরিপের পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত হতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জয় পেতে হবে।
এ ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সমর্থকদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র ও হিস্পানিক ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও রিপাবলিকানদের পক্ষে ভোট দিতে পারেন। প্রতিনিধি পরিষদের ফল ক্যালিফোর্নিয়ায় ডাকযোগে আসা ব্যালট গণনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে সিনেটে রিপাবলিকানরা নিজেদের শক্ত ঘাঁটিগুলো ধরে রাখার পাশাপাশি মিশিগানের মতো ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত আসনেও জয় পেতে পারেন।
এমন ফল হলে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখে নিজের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে আরও রাজনৈতিক সমর্থন পাবেন ট্রাম্প।
সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের আসন বণ্টন নির্ধারণ করবে না, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি মেয়াদের রাজনৈতিক গতিপথও প্রভাবিত করতে পারে। তবে ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনটি সম্ভাবনার কোনটি বাস্তবে রূপ নেবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সূত্র: বিবিসি