Image description

ন্যূনতম মজুরির দাবিতে মিরপুরে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। দুপুর ১২টার পর থেকে সেখানকার পরিস্থিতি ও যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দীন। সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশন চালু হয়েছে।

এর আগে টানা চতুর্থ দিনের মতো সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাকশ্রমিকরা। পরে তাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে শ্রমিকদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেডে নিক্ষেপ করে পুলিশ।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর ১২টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও মিরপুর-১১ নম্বরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচের দুই পাশেই পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি যুবদল-ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা লাঠি হাতে মিছিল দিচ্ছেন।

ছবি: আগামীর সময়
দুপুর দেড়টায় পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দীন আগামীর সময়কে বললেন, সকালে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। পরে পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। দুপুর ১২টার পর পরিস্থিতি ও যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, দুপুর ২টার পর আবারও সড়ক অবরোধের চেষ্টা করা হতে পারে এমন তথ্য শোনা যাচ্ছে। তাই আমাদের ফোর্স স্টানবাই রাখা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক পোশাক শ্রমিক জানিয়েছে, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তার দাবি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ তাদের ওপর টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড চালায়। দুপুরের খাবার শেষে তারা আবারও আন্দোলনে নামবেন বলেও জানালেন এই পোশাকশ্রমিক।

সংঘর্ষের কারণে মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে নিরাপত্তার স্বার্থে মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১১ স্টেশনে ট্রেন থামা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় স্টেশন দুটির সব প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়েছিল। ফলে কোনো যাত্রী স্টেশনে প্রবেশ বা বের হতে পারেননি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্টেশন দুটিতে ট্রেন থামা এবং যাত্রী ওঠানামা শুরু হয়েছে।


পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে বিক্ষোভকারীদের হামলায় অন্তত সাত থেকে আটজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

ওসি জালাল উদ্দীন জানালেন, মিরপুর-১১ থেকে শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হলে তারা কালশীর দিলে সরে যায়। সেই সময় পল্লবী থানা থেকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য মিরপুর-১১ এর দিকে আসছিলেন। দলছুট অবস্থায় পেয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

হামলা চালানোর সময় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও জানালেন, গ্রেপ্তাররা পোশাকশ্রমিক না। তারা আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের সদস্য বলে আমরা প্রাথমিকভাবে আইডেন্টিফাই করেছি। তাদেরকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পুলিশের ওপর হামলার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েকজন লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাচ্ছেন পুলিশ সদস্যকে। এসময় হামলাকারীদের ঠেকানোর চেষ্টা করতেও দেখা গেছে কয়েকজনকে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (পিওএম-দক্ষিণ) মোহাম্মদ তৌহিদুল আরিফ বলেছেন, পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে দুষ্কৃতকারীরা অনুপ্রবেশ করেছিল। শ্রমিক নেতারা গতকাল বলেছেন— শ্রমিকরা এই আন্দোলন থেকে সরে আসবে। যারা এর পরেও বিক্ষোভ চালিয়ে যাবে, তারা কোনোভাবেই শ্রমিক নয়, তারা দুষ্কৃতকারী। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।