রাঙামাটির সাজেক পর্যটন সড়কে চতুর্থ দফায় পাঁচ দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অবরোধ কর্মসূচি চলছে।
সোমবার সকাল থেকে সাজেকের বিভিন্ন স্থানে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয়। তবে কর্মসূচি সকাল-সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। এদিন কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানায় পুলিশ।
সড়কটিতে তৃতীয় দফায় ২২ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়ে টানা ১০ দিন পর ১১তম দিনে রোববার একদিনের জন্য শিথিল রাখার পর সোমবার থেকে আবারও পালন করছে আন্দোলনকারী সংগঠন দুটি। তার আগে ১১ অক্টোবর ও ১৫ অক্টোবর দুই দফায় এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
জেএসএস সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ, আহতদের চিকিৎসা, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ পাঁচ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের সমর্থনে সোমবার সকাল থেকে সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন আন্দোলনকারীরা। এতে কর্মসূচির আওতামুক্ত যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করেনি।
এদিকে টানা অবরোধের ফলে সাজেকের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। এতে চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও জিনিসের সংকট চলছে বলে জানান স্থানীয়রা।
আন্দোলনকারী সংগঠন দুটির নেতা বাবুধন চাকমা ও নতুন জয় চাকমা বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ তুলে নেওয়া সম্ভব নয়।
সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, অবরোধের কারণে ওই সড়কে বড় ধরনের যানবাহন চলাচল করছে না। মাঝে মাঝে কয়েকটি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে দেখা যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। অবরোধ চলাকালে এখনো পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
সাজেকের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে এর আগে গত ২৬ অক্টোবর উজোবাজারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন দুই সংসদ সদস্য খাগড়াছড়ির আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া ও রাঙামাটির দীপেন দেওয়ানসহ জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এতে আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির চারটিতে সমঝোতা হলেও মূল বিরোধের দাবি নিয়ে মতপার্থক্যে আলোচনা অমীমাংসিত থেকে যায়। তবে পরবর্তী আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো কোনো উদ্যোগ নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বলেন, অবরোধের পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।