রাজধানীর মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পোশাক কারখানায় আগুন ও বিভিন্ন স্থানে নাশকতার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাশেদ খাঁন। এসব ঘটনায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে জামায়াতের আমিরকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ যে অগ্নিসংযোগের ঘটনা বা অগ্নিসন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে, এর দায় জামায়াতের আমির এড়াতে পারে না। সুতরাং এই অগ্নিসন্ত্রাসের উসকানিদাতা হিসেবে জামায়াতের আমিরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই যে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ যে চক্রান্ত করছে, এই চক্রান্তের পেছনে রয়েছে জামায়াত এবং জামায়াত তাদের উসকানি দিচ্ছে। সুতরাং আমি মনে করি, এই অগ্নিসন্ত্রাসের দায়ে জামায়াতের আমিরকে গ্রেপ্তার করা উচিত। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।’
আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের পেছনে জামায়াতের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করে রাশেদ খাঁন বলেন, লং মার্চে বক্তব্য দেওয়ার সময় সবকিছু তছনছ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। অথচ এখন অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটার পর কঠোর হওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘লং মার্চ থেকে বললেন সবকিছু তছনছ করে দেওয়া হবে। এখন আওয়ামী লীগ যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে, আপনি বলছেন কঠোর হতে হবে। সেই সময় মনে ছিল না? সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ যে নৈরাজ্য করছে, যে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, যে সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে, এর দায় কোনোভাবেই জামায়াতের আমির এড়াতে পারেন না।’
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া, গার্মেন্টসে আগুন দেওয়া এবং মানুষের পিকআপে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনাগুলোর সঙ্গে জামায়াতের ইন্ধন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এসব ঘটনায় জামায়াতের আমিরের সম্পৃক্ততা কতটুকু, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত।
প্রসঙ্গত, পোশাক শ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) থেকে রাজধানীর মিরপুরে আন্দোলন চলছে। রবিবার (১ নভেম্বর) আন্দোলন চলাকালে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় মিরপুর-১১ এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। একই দিনে গাজীপুরে কয়েকটি স্থানে আগুন এবং সাভারে একটি পোশাক কারখানার নিরাপত্তা চৌকিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও ময়মনসিংহের ৫২৯টি পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করে। আজ সোমবারও (২ নভেম্বর) মিরপুরে শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।