Image description

কাগজে-কলমে মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ। কিন্তু কলেজ শাখায় নেই কোনো শিক্ষক, নিয়মিত শিক্ষার্থীও নেই। চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে অংশ নিয়েছিলেন মাত্র একজন। তিনিও অকৃতকার্য হয়েছেন। ফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

 

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের চিত্র এটি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির নাম।

 

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০০৯ সালে চালু করা হয় কলেজ শাখা। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থাকলেও বর্তমানে একাদশ বা দ্বাদশ শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। এ বছর মানবিক বিভাগ থেকে একমাত্র পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তিনিও পাস করতে পারেননি।

 

মাধ্যমিক শাখায় শিক্ষক রয়েছেন ১৪ জন। তাঁরা সবাই এমপিওভুক্ত এবং নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা পান। তবে কলেজ শাখা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় সেখানে যোগ দেওয়া শিক্ষকরা একে একে চাকরি ছেড়ে চলে যান।

 

প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পরিতোষ সরকার বলেন, ‘২০০৯ সালে কলেজ শাখার অনুমোদন মিললেও এমপিওভুক্তি হয়নি। পাঁচ-ছয় বছর আগে কলেজের শিক্ষকরা একে একে চাকরি ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ছাড়াই চলছে কলেজ শাখা।’

 

এ বছর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একমাত্র শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েই চলে গিয়েছিলেন বলে জানান পরিতোষ সরকার। তাঁর ভাষ্য, ‘ওই শিক্ষার্থী এক দিনও ক্লাস করেননি। সম্ভবত তিনি কোনো তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।’

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বর্ণা রানি বিশ্বাস বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী পাওয়া যায় না। ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করেও শিক্ষার্থী সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।’

 

কলেজ শাখার এমন পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মুকসুদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজা বেগম বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব স্কুল পর্যায়ের কার্যক্রম তদারকি করা। কলেজ শাখা আমাদের এখতিয়ারভুক্ত নয়। এটি ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক তদারকি করেন।’

 

মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ আশিক কবির বলেন, ‘একমাত্র পরীক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে কলেজ শাখার এমন বেহাল অবস্থায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত তদন্ত করে প্রতিষ্ঠানটির পাঠদানের বাস্তব অবস্থা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।