Image description

পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন পোশাকশিল্পের শ্রমিক নেতারা।

 

সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে তৈরি পোশাক খাতের চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সচিবালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।

 

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন ছাড়াও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ পোশাকশিল্পের শ্রমিক নেতারা উপস্থিত রয়েছেন। এ ছাড়াও ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ ঊর্ধ্বতন কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাও বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।

 

এর আগে বেলা ১১টার পর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পোশাকশিল্প মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন জানান, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ হয়। তাদের জীবন মানের উন্নতি হয় এবং তাদের সমস্ত বিষয় বিবেচনা রেখে অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে সে বিষয়টি (ন্যূনতম মজুরি) নির্ধারিত হয়। এটা উভয়পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবতার নিরিখে নির্ধারিত হবে।

 

শ্রমিকদের জন্য রোববার (১ নভেম্বর) মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আজ (সোমবার) হয়তো তাদের প্রথম সভা হতে পারে বা সম্ভাব্য স্বল্প সময়ে তারা বসবেন। আলাপ-আলোচনা হবে। সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যথা শিগগির সম্ভব তাদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে ঘোষণা হতে পারে। সময় রেখা তিন বছর পূর্ণ হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় আছে। আশা করি, তারা সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ করে ন্যূনতম মজুরি ঠিক করত পারবেন।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যে সব সহিংস ঘটনা বিগত কয়েক দিনে সংঘটিত হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ যাবৎ সংঘটিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে, আগুন জ্বালিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে, তাদের পেছনে যারা ইন্ধন দিচ্ছে, তারা চিহ্নিত হয়েছে। দুঃখজনক হলো, এখানে কিছু শিল্প ও মিল মালিকরা জড়িত আছেন। কিছু শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে- যারা শ্রমিকদের কল্যাণ চায় কি না প্রশ্নবিদ্ধ, সেসব লোক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। সহিংসতা সৃষ্টি করেছে।

 

 

  •  

অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে যারা শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত, আইনশৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত, দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা গতকাল এ ধরনের কিছু ব্যক্তিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

 

বর্তমানে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। বাড়ি ভাড়া, খাবার খরচ, যাতায়াত এবং চিকিৎসা ব্যয়সহ জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে শ্রমিকেরা এ মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছে।