Image description

চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ড বাঁশবাড়িয়া ঘাট থেকে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটের দুরত্ব দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। এই পথে এমভি মালঞ্চ নামের জাহাজে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ছিল মাত্র ১৪০ টাকা। এর পাঁচগুন ১০০ কিলোমিটারের ভাড়া হয় সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা। এই জাহাজই পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন রুটে চলাচল করবে। তবে প্রায় ৯৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পর্যটকদের একমুখী সর্বনিম্ন ভাড়া গুনতে হবে ১৮০০ টাকা। সে হিসাবে আসা-যাওয়ার সর্বনিম্ন খরচ পড়বে ৩ হাজার ৬০০ টাকা।

পর্যটন মৌসুমে সেন্টমার্টিনে যাতায়াতের জাহাজ ভাড়া নিয়ে ইতিমধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। দূরত্বের তুলনায় ভাড়ার এমন ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে পর্যটক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। এ নিয়ে চলেছে নানান আলোচনা। এরইমধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)-এর অধীনে পরিচালিত জাহাজটি ভাড়ায় কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে চলবে বলে নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এ জাহাজের ভাড়া নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, কক্সবাজারের একটি প্রতিষ্ঠান আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত জাহাজটি ভাড়া নিয়েছে। পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এর ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করে টিকিট বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রচার করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৬-২৭ পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন-কক্সবাজার রুটে চলাচলের জন্য যুক্ত হচ্ছে এমভি মালঞ্চ (MV Malancha) নামের প্রমোদতরী।

সন্দ্বীপ-চট্টগ্রাম নৌপথে ২০-২১ কিলোমিটার যাতায়াতে ১৪০ টাকা ভাড়ার সঙ্গে সেন্টমার্টিন রুটের ভাড়ার তুলনা টেনে স্থানীয় অনেকে নানা ধরনের প্রশ্ন তুলছেন। তারা বলছেন, সমুদ্রগামী একই জাহাজের ক্ষেত্রে এত বেশি ভাড়া কেন? শুধু দূরত্ব নয়, জাহাজের সেবার মান, পরিচালন ব্যয়, নিরাপত্তা ও টিকিটের শ্রেণি বিবেচনায় ভাড়ার যৌক্তিকতা নিয়েও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা চান তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব তারা।

একসময় সন্দ্বীপের মানুষের কাছে ‘ভাঙাচোরা মালঞ্চ’ হিসেবে পরিচিত এই জাহাজের বর্তমান টিকিট মূল্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা চলছে। প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির সর্বনিম্ন টিকিটের মূল্য একমুখী ১৮০০ টাকা। এই খরচে অন্তত ১২ বার সন্দ্বীপে যাওয়া যাবে। প্রকাশিত ভাড়া তালিকায় ইকোনমি শ্রেণির টিকিট আসা-যাওয়া ৩ হাজার ৫০০ টাকা উল্লেখ রয়েছে। 

অন্যান্য শ্রেণির মধ্যে এক্সিকিউটিভ ৪ হাজার ২০০, ডিলাক্স ৪ হাজার ৫০০, এক্সিকিউটিভ সেলুন ৫ হাজার ৫০০ এবং প্রাইভেট সেলুনের ভাড়া ৬ হাজার টাকা। এ ছাড়া কেবিনের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে সিঙ্গেল ৮ হাজার, ডাবল ১২ হাজার, ভিআইপি ১৫ হাজার এবং ভিভিআইপি ১৮ হাজার টাকা। 

সন্দ্বীপ-চট্টগ্রাম নৌপথে ২০-২১ কিলোমিটার যাতায়াতে ১৪০ টাকা ভাড়ার সঙ্গে সেন্টমার্টিন রুটের ভাড়ার তুলনা টেনে স্থানীয় অনেকে নানা ধরনের প্রশ্ন তুলছেন। তারা বলছেন, সমুদ্রগামী একই জাহাজের ক্ষেত্রে এত বেশি ভাড়া কেন? শুধু দূরত্ব নয়, জাহাজের সেবার মান, পরিচালন ব্যয়, নিরাপত্তা ও টিকিটের শ্রেণি বিবেচনায় ভাড়ার যৌক্তিকতা নিয়েও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা চান তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব তারা।

মো. টিপু সুলতান নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সন্দ্বীপবাসী যারে বলতো ভাঙাচোরা মালঞ্চ। দেখেন সেটার বর্তমান টিকেট মূল্য দিয়ে সন্দ্বীপ চট্টগ্রাম ১০ বার আসা যাওয়া করা যাবে। সর্বনিম্ন টিকিট নাকি ১৮০০ টাকা, তাও সিট পাওয়া নাকি সোনার হরিণের মতো।’

জানা গেছে, রবিবার (১ নভেম্বর) থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলেও রুট পারমিট ও অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থার জটিলতায় কক্সবাজার থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হতে আরও চার-পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে। সম্ভাব্য ৫ বা ৬ নভেম্বর থেকে বার আউলিয়া, টেকনাফ ও কর্ণফুলী জাহাজ চলাচল শুরু করার কথা রয়েছে।

নতুন মৌসুমে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন। পর্যটকদের জন্য ট্রাভেল পাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রতি ১০০ টাকা পরিবেশ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, সেন্টমার্টিন ভ্রমণে নতুন নিয়মের পাশাপাশি যাতায়াত ভাড়ার বিষয়টিও পর্যটকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই জাহাজের ভাড়া নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও যৌক্তিকতা নিশ্চিত করা জরুরি।

এ বিষয়ে জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, ৫ বা ৬ নভেম্বর থেকে বার আউলিয়া, টেকনাফ ও কর্ণফুলী জাহাজ চলাচল শুরু করার কথা রয়েছে। তবে এখনো প্রশাসন থেকে অনুমতি পাইনি এমভি মালঞ্চ।

জাহাজটির ভাড়া ও পরিচালনার অনুমোদন বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কক্সবাজার (কস্তুরাঘাট) নদীবন্দরের পোর্ট অফিসার মো. আব্দুল ওয়াকিল বলেন, এমভি মালঞ্চ সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

জাহাজটি ভাড়ায় দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিআইডব্লিউটিসির চট্টগ্রাম অফিসের সহ-মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) কে এম এমরান। তিনি সোমবার (২ নভেম্বর) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘কক্সবাজারের একটি প্রতিষ্ঠান জাহাজটি ভাড়া নিয়েছে। আগামী ৫-৬ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত এটি সেন্টমার্টিন রুটে চলবে। ভাড়ার বিষয়ে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। এটি ট্যুরিজম বোর্ড নির্ধারণ করে।’